ছুটি



 "ছুটি" 

নামঃ ফারজানা আলম পিয়া 

৭ম ব্যাচ 



মা:  কি রে বাবা, কেমন আছিস ? বাড়ি আসবি না ? পূজা তো কদিন পরেই। 


ছেলে:  না, মা । এবার ছুটিতে বাড়ি আসা হবে না।  ক'দিন পরেই আমার পরীক্ষা। অনেক পড়াশোনা জমে আছে। এখন এই সময়, বাড়িতে আসতে গেলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই এখন আর বাড়ি আসছি না। তুমি চিন্তা করো না।  পরীক্ষা শেষ হলেই, লম্বা ছুটি পাব। তখন বাড়ি ফিরব আর তোমার কোলে মাথা রেখে গল্প শুনবো। 


মা:  আচ্ছা বাবা। তোকে ছাড়া পূজা ভালো লাগে নারে।  তবুও, তোর পড়াশোনার কোনো ক্ষতি করিস না।


ছেলে:  আর হ্যাঁ,শোনো আমি কিছু টাকা পাঠিয়েছি। জানি আগের টাকাগুলো ভাই বোনের আবদার পূরণ করতে করতেই, শেষ করে ফেলেছ । তাই এবার আলাদা করে তোমাকে আর বাবাকে টাকা পাঠাচ্ছি। পূজা উপলক্ষে তোমরা কিছু কিনে নিও। আর যদি না কিনো, আমার কিন্তু খুব মন খারাপ হবে। আমি কিন্তু রাগ করবো। 


মা:  আচ্ছা বাবা কিনে নেব। 


ছেলে:  আমার বন্ধু সৌরভ কে বলে রেখেছি। ও পূজার দিনে,  নতুন পোশাকে তোমাদের সবার ছবি তুলে আমাকে পাঠিয়ে দিবে। 

 

মা:  আচ্ছা বাবা।


ছেলে:  আচ্ছা মা, এখন রাখি। আমাকে আবার বেরোতে হবে। 


*** 


 মায়ের সাথে কথা বলা শেষ করে,  ফোনটা নামিয়ে রাখল অর্ক। চোখ থেকে জল পরছে তার।  বছর ঘুরে আসে তো, ঐ একটাই পূজা আসে আসে। সারা বছর ধরে মানুষ কত চিন্তা ভাবনা করতে থাকে । এটা করবে, সেটা করবে, এটা কিনবে সেটা কিনবে,

এখানে ঘুরতে যাবে, সেখানে ঘুরতে যাবে। কতো কি চিন্তা ভাবনা।  


 হ্যাঁ আর সবার মত অর্ক অনেক চিন্তাভাবনা করেছিল পূজা নিয়ে।  ভেবেছিল অনেকদিন পর, এবার বাড়ি ফিরে সবার সাথে একসাথে আনন্দ করবে। কিন্তু না তা আর হল না। কারণ টা অবশ্য পরীক্ষা না। পরীক্ষা গত মাসেই শেষ হয়ে গেছে। পরের পরীক্ষা আসতে আরো ৬ মাস বাকি। বাড়ি যাওয়ার কারণটা আবার টিউশনি ও না। আগে চারটা টিউশনি করাতো অর্ক।  এর মধ্যে গত মাসেই দুইটা স্টুডেন্টের ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে গেছে। আর ফাইনাল পরীক্ষা হয়ে যাওয়া মানে তো টিচারের বিদায় ঘন্টা। তারপরও কেন বাড়ি গেল না অর্ক ?  


সে ভেবে দেখল -- দক্ষিণবঙ্গের যে শহরে পড়াোশার জন্য তার বসবাস, সেখান থেকে  উত্তরবঙ্গের যে শহরে তার আপন মানুষদের বসবাস, শুধু আসা যাওয়ার ভাড়া বাবদই তার খরচ ২ হাজার টাকা। পথিমধ্যে আরও কিছু খরচ তো আছেই।  অর্ক ভাবল এই ২/৪ হাজার টাকা যদি খরচ না করে, মায়ের হাতে দেয়া যায়, অন্তত একটা কিছু কিনতে পারবেন। তার বাড়ি যাওয়া, বাড়ির সবার সাথে পূজা উদযাপন করার থেকেও, পরিবারের সদস্যদের পূজা উপলক্ষে কিছু কিনে দিতে পারার আনন্দটা অনেক বেশি।  তাইতো নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে, তাদের হাতেই টাকাটা তুলে দিলো সে। আর নিজের জন্য না হয়,  প্রিয়মানুষদের হাসিমুখের ছবিটাই তুলে রাখলো।  


জীবন সংগ্রামে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলা, এমন অনেক অর্ক আছে আমাদের চারপাশে। যারা হয়তো হাজার অজুহাতের পিছনে লুকিয়ে রাখে, নিজের সখ, আহলাদ, ভাললাগাগুলো। তবুও শতশত না পাওয়ার কষ্টের মাঝেও,  বুক পাঁজরের আড়ালে কিছু মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ইচ্ছা পুষে রাখে। ভালো থাকুক সেই অর্করা। ভালো থাকুক, বুক পাঁজরের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর তীব্র ইচ্ছাটা৷ 

No comments

ভালোবাসি কি বলতেই হবে?

 ভালোবাসি কি বলতেই হবে? -মহিমা মাঝরাতে রাস্তায় হাঁটবো; কোনো এক নিয়ন-আলোতে ভালোবাসা কুড়াতে... আমাদের দিগন্তটা কোথায় হবে? জোস্নায় শেষ হবে তোহ?...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.