না বলা ভালোবাসা



চারদিক কেমন জানি নিস্তব্ধতায় ঠেকে গেলো হঠাৎ করে।বাতাসের শো শো শব্দ শোনা যাচ্ছে না, নদীর ঢেউয়ের শব্দটাও যেনো থেমে গেছে।আমার কানে শুধুই নীল শাড়ি পড়া মেয়েটির পায়েলের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। রিমনের ধাক্কাতে যেনো কল্পনা থেকে বাস্তবে চলে এলাম।নদীর পাড়ে প্রতিদিন বিকেলেই যাওয়া হয়।আর প্রতিদিনই এমন নিস্তব্ধতায় আটকে যাই কয়েক মুহূর্তের জন্য।আজ প্রায় এক মাস যাবত এমন টা হচ্ছে এই অপরিচিতা কে দেখে।সেই দিন সোমবার ছিলো যেদিন তাকে প্রথম দেখি।এখনো স্পষ্ট মনে আছে মেঘলা ছিলো আকাশটা আর বাতাস হচ্ছিল, নদীতেও বেশ ঢেউ ছিল।আমি পাশের বেঞ্চে বসা ছিলাম একা কালো রং এর পাঞ্জাবি পড়ে।হঠাৎ করেই সবুজ শাড়ি পড়া মেয়টি এলো আর আমার থেকে একটু দূরে একটা বেঞ্চে বসে নদী দেখছিলো অপলক দৃষ্টিতে যেনো নদীর মাঝেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে।হুট করে চোখে চোখ পড়াতে সে উঠে চলে গেলো।এরপর অনেক দিন আসে নি সে।সপ্তাহ খানেক বাদে আমি আবার তাকে দেখতে পাই নদীর পাড়ে হলুদ রঙের শাড়ি পড়ে আর মাথায় লাল গোলাপ। কথা বলার তীব্র বাসনা জাগলেও সাহস করে ওঠা হয়নি।এরপর প্রায়শই দেখতাম তাকে সেজে এসে বসে থাকত নদীর পাড়ে।আজকেও সোমবার। আজকের এই বারেই প্রথম দেখিছিলাম তাকে।আজও সেই নীল রঙের শাড়িটা পড়ে এসেছে। খুব বেশিই অপূর্ব লাগছে তাকে।তার খোপাতে শিউলি ফুল গুলি দেখে মনে হচ্ছে এগুলা যেনো তার খোপাতে পড়ার জন্যই ফুটেছিলো।

নিস্তব্ধতায় আমার চারপাশ থমকে আছে মনে হচ্ছে।কেন জানি এই নিস্তব্ধতা ভেঙে এই মায়াবতীর নাম জানার আকুল ইচ্ছে জাগছে মনের মাঝে।খুব সাহস করে সামনে আগাই। তার কাছে গিয়ে আমতাআমতা ভাবে জিজ্ঞেস করি বসতে পারি কিনা। সে আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কিছুই বলল না। মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে কঠিন প্রশ্ন টাই তাকে বোধহয় করে ফেলেছি আমি।সে আমাকে কিছু বলল না।উঠে চলে গেলো।
খুব মন খারাপ হচ্ছিল।এমন টা হওয়াতে।প্রায় মাস কয়েক কেটে গেছে তার সাথে আর দেখা নেই।তার জন্য প্রতিদিন ওই সময় টাতে নদীর পাড়ে গিয়ে সেই দিনের কথাটা ভাবি।ভাবনাতে এটাই বেশি থাকে যে হয়ত ভুল ছিলো আমার কথা বলতে যাওয়াটা।বাসায় ফেরার সময় হয়েছে।চারদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। মসজিদে আজান হয়েছে।এমন সময় হঠাৎ করে একটা বাচ্চা এসে পিছন থেকে আমার শার্টের পিছন থেকে টান দিচ্ছে।পিছন তাকাতেই একটা কাগজ আমাকে দিয়ে ছেলেটা দৌড়ে পালায়।
কাগজ টা খুলে দেখি খুব সুন্দর হাতের লেখায় লেখা ছিলো, আপনার নামটা অনেক সুন্দর। হিমাদ্রি রহমান আকাশ। আএ আপনাকে টিয়া আর কালো পাঞ্জাবিতে অসম্ভব সুন্দর লাগে।সব সময় চশমা পড়ে থাকবেন না।মাঝে মাঝে চশমা ছাড়াও থাকবেন।চশমার ফ্রেম এর বেড়াজালে আপনার সুন্দর চেহারাটা অনেকটাই আটকে যায়।সেদিন বসতে পারেন কিনা সে প্রশ্ন এর উওর দেয়ার ক্ষমতা আমার ছিল না।খুব ইচ্ছে হচ্ছিল আপনি পাশে বসুন এটা বলতে কিন্তু আমার সাধ থাকলেও সাধ্য ছিলো না কারণ আমি কথা বলতে পারি না।আমি সেদিন এর পরে শাড়ি পড়া ছেড়ে দিয়েছিলাম।কিন্তু একবাএ আপনার সাথে নদীর পাড়ে বসার ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রাখতে পারলাম না। সোমবার অপেক্ষা করবেন আপনার জন্য আরেকবার শাড়ি পড়তে চাই।যদি পারেন নীল রঙের পাঞ্জাবি পড়ে আসবেন।সবার শেষে নাম লেখা ছিলো নীলাঞ্জনা।
আজ সোমবার। দুপুরের খাওয়া সেরে সাদা আর লাল গোলাপ কিনে নদীর পাড়ে বসেছিলাম আর ভাবতেছিলাম নীলাঞ্জনার কথা।পিছন থেকে কেউ স্পর্শ করাতে পিছনে তাকাতেই দেই সেই অপরুপ সৌন্দর্য ভরা নীল শাড়িতে সেই মেয়টি দাড়িয়ে। মায়াবী একটা হাসি তার ঠোঁটের কোণায়।জগতের সব কিছু জেনো আমার জন্য থেমে গেছে।আমি সব নিস্তব্ধতা ভেঙে তাকে ফুলগুলো দেই।এরপর অনেকটা সময় একসাথে নদীর পাড়ে নিশ্চুপ বসে থাকি দুজন।

এরপর বছর ছয়েক কেটে যায়।আবারো আমি নীল পাঞ্জাবী আর নীল শাড়ি পড়া নীলাঞ্জনা নদীর পাড়ে বসে আছি। সাথে আমাদের মেয় নদি।না বলতে পারা ভালোবাসা আমাদের অনুভূতির সাথে মিশে আছে সেই প্রথম দেখা থেকেই।


মোঃ আমিনুল ইসলাম রায়হান
৯ম ব্যাচ

No comments

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.