সপ্তর্ষির গল্পে অদ্রি


নীল রং ভাল লাগতে শুরু করলো কবে থেকে তোমার। আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য না। জানি আপনি কি বলবেন, বিয়ে করা বউ তো স্বামীর বাধ্য হতে হয়। আমি এত কিছু ভাবি নাই অদ্রি।

তোমার নাকি মন খারাপ হয়েছে শুনলাম,তাই এখানে নিয়ে এলাম। দেখুন অাপনার সাথে বিয়টা অস্বীকার করতে পারবো না ঠিকই, কিন্তু আপনাকে এই মুহূর্তে স্বীকার করতেও পারছি না।অাপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমার বোধহয় অন্য কোন সম্পর্ক ছিল, যদি এমনটা ভেবে থাকেন তাহলে ভুল ভাবছেন।

বিশ্বাস না হলে অামার মোবাইলটা নিয়ে রাখতে পারেন।

সপ্তর্ষির কি বলা উচিত এই মুহুর্তে ভেবে পেল না।শুধু এতটুকু বলো আমার এখন কি করা উচিত। আপনি কি ডিভোর্স চান? মিঃসপ্তর্ষি অাপনাকে আমি একবারও বলছি যে অামি ডিভোর্স চাই। আমাকে অত্যন্ত একা থাকতে দিন এই মুহূর্তে এতটুকু করলেই হবে। ম্যাডামকে নিয়ে বাসায় চলে যেও অামি অটোতে চলে যাবো, জ্বী অাচ্ছা স্যার।

অফিস বন্ধ থাকলেও নিজের অফিসে বন্ধ কিসের। প্রতিদিন অফিসে এসে কফি খাওয়াটা অভ্যাস হয়ে গেলেও অাজ অভ্যাস করছে না, অশান্ত লাগছে মনটা ভীষণ। ওর দিদিকে ফোন দিয়ে কি বলব,ওর কি কোন অতীত আছে কি না। ওর নিজের বলতে তো বাবা-মা। পরিবারের একমাত্র মেয়ে বলে এমনটা নাকি। দূর সম্পর্কের দিদিকে ফোন দেওয়া ঠিক হবে না,মেবাইল ডায়েল করে কেটে দিল সপ্তর্ষি।

বিয়ের আজ ২৩ তম দিন অামাদের। অথচ আমার সাথে তেমন কোন কথা বলে নাই অদ্রি। ভাবতে ভাবতে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও বাসায় আজ রাত বারো টাই এলাম। মা হয়ত ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু না,মা আর অদ্রি খাবার টেবিলে অপেক্ষা করছে। কি রে সপ্তর্ষি তোর ফোন অফ কেন, মা চার্জ ছিল না তাই অফ হয়ে গিয়েছিল। তোর কি কোন কান্ড জ্ঞান হবে না বউ মা কে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে একা রেখে চলে গেলি। কি বলব কিছু উঠতে না পেরে, অদ্রি বলল মা ওর অফিসে একটা কাজ ছিল ও ভুল গিয়েছিল তাই আমি ওকে।বাধ্য করেছিলাম যেতে। সত্যি অফিসে কাজের মধ্যে একটা চেক সাইন করছি। তুমি কেন বললে বউমা, কাজ তো পরেও করা যেত, মা ওর ওপর অনেকগুলো পরিবার নির্ভর করে। সত্যি তো চেক সাইন না করলে অামার কর্মীরা বেতন পেত না। সপ্তর্ষি ফ্রেস হয়ে খাবার টেবিলে অাসুন। বউমা স্বামী কে অাপনি করে বলতে হয় না। মা আমার একটু সময় লাগবে, তারপর মা বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।

হয়ত মা ও এমনটা করছে। কথা না বাড়িয়ে সুবোদ বালকের মতন চলে গেলাম রুমে।

সকালটা আজ অন্য রকম হলেও রাতটা বেশ ভাল কাটছে। অদ্রি তুমি আমার অফিসে যাবে,অফিস করার ইচ্ছে ছিল একসময় কিন্তু এখন অার নাই।কেন বাসায় বাবা মাকে দেখার মতন আর কেউ নাই বলেই আপনাকে বিয়ে দিয়েছেন বুঝতে পারছেন আশা করি। এবার ও আমি ওর যুক্তির কাছে হেরে গিয়েও তৃপ্তি পেলাম।

তোমার কোন ইচ্ছে থাকলে বলতে পারো।এত তাড়া কিসের আপনার, বাকী জীবনটা আপনার সাথেই।কাটাতে হবে তখন জানবেন না হয়। ঘুমিয়ে যান সকালে অফিস আছে আপনার, আর শুনুন আপনার ঐ মেয়ে কলিগকে অন্য বাঞ্চে বদলি করে দিয়েন।

ব্যাখা করার মতন ইচ্ছে নাই রাত দুপুরে,কেন করা হলো আপনি না জানলেও চলবে ঐ মেয়ে বুঝে যাবে কেন করা হয়েছে। সবটাই আমি টাইপ করে রেখেছি,শুধু আপনার সাইন দিয়ে পাঠিয়ে দিবেন।

এই মেয়েকে যত দেখছি অবাক হচ্ছি, বিয়ের আগে।কথা বার্তা ফোনে হালকা হলেও বিয়ের পর সম্পূর্ণ পরিবর্তন। জানি না কি হচ্ছে, তবে এতটুকু ভাল লাগছে সবাইকে আপন করে নিতে পারছে।

অদ্রি অফিসে এখন,কয়টা বাজে।কেন দুপুর, আজ আপনার সাথে অামার মায়ের বাসায় যাওয়ার কথা ছিল, জানি ভুলে যাবেন, ও সরি।চলো বাসায় চেঞ্জ করে তারপর যাচ্ছি, এই ব্যাগে সব আছে অামি ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছি। এই মেয়ে এত শান্ত, অন্য কেউ হলে এত সময়, যাই হোক আর দেরী করে লাভ নাই। গাড়ীতে উঠুন, ড্রাইবার কোথায়। আমি। মানা করছি,ভয় নাই আমি গাড়ী চালাতে জানি।

আচ্ছা এটা কি হচ্ছে আমার সাথে,কিছুই তো বুঝতে পারছি না। আপনি আজ থেকে কাল অফিস করে এখানে চলে আসবেন জানি কষ্ট হবে,মাকে সব বলা আছে,ও বলতে ভুলে গেছি বাসায় আমার একজন বিশ্বস্ত মানুষকে নিয়োগ দিয়েছি, আপনার সমস্যা হলে বলবেন।ছাড়িয়ে দিব তা হলে। না না সমস্যা হবে কেন। আর অবশ্যই ড্রাইভার যেন গাড়ী চালাই।

আপনি থেকে তুমিতে আসতে এক বছর লেগেছিল,তাও মজার একটা ঘটনা ছোট করে বললে সবাই মিলে একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছি,এখন আমি একটি দূরে, আপনি বললে ব্যাপারটা গল্পের পর্যায়ে চলে যাবে যেহেতু গ্রামের অনুষ্ঠান। সেদিন থেকে আপনি থেকে তুমি।

অদ্রি ভালবাসত একান্তে নিজের মতো করে,কখনও প্রকাশ না করেও এতটা ভালবাসা।তা সপ্তর্ষি বুঝেও না বুঝে থাকত, কারণ অদ্রির মুখে সবসময় সপ্তর্ষির ভালবাসায় থাকত।

প্রসেনজীৎ পাল
৭ম ব্যাচ

No comments

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.