করোনায় তারুণ্যের করণীয়


করোনায় যা কিছু করার
COVID-19

সাল ২০২০, মৃত্যু কিংবা বেঁচে থাকা যেখানে সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। Covid-19 নামক ভাইরাস যে এত বড় বৈশ্বিক মহামারী সৃষ্টি করবে আমরা কেউই জানতাম না। এরকম হাজারো অজানা ঘটনা ঘটতে পারে আগামী দিনগুলাতে। নেশা থেকে পেশা,দেশ থেকে বিশ্ব পুরোটাই উল্টে পাল্টে যেতে চলেছে।

এই পরিস্থিতি একটাই শিক্ষা দেয়,কি বলুন তো! সময়মত একটুখানি পূর্ব প্রস্তুতি,একটু খানি সচেতনতা,একটুখানি গুরুত্ব। সময়টা চলে যাওয়ার পরই আমরা মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে বসেছি। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়টা আগে ভেবে নেয়ার ঘটনার পরিক্রমায়।বাচ্চা থেকে বুড়ো, ভিকারি থেকে অট্টালিকার মালিক, মাস্তান থেকে দেশ পরিচালনাকারী সবাই চিন্তিত।

আরও চিন্তিত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আগামীর প্রজন্ম।যাদের হাত ধরে নতুন বিশ্ব এগিয়ে যাবে। আবারো সচল হবে অর্থনীতির চাকা,ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বিশ্বরাজনীতি নামক গোলক ধাধাঁর।এই সামাজিক দুরত্বের সময়টাতে কিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে আগামীর প্রজন্ম তারা কি পারবে ভবিষ্যতের নতুন কোনো ভাইরাস মহামারী ছড়াবার আগে রুখে দিতে,লকডাউন চালু রেখে কি সম্ভব হবে অর্থনীতির চাকা ঘুর্ণায়মান রাখা!  চিন্তাটা আসেনি এখনো, আসার কথাও নয়।

এমনটাই ইতিপূর্বে হয়েছে বা এখনো হচ্ছে বলেই-না সারা বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। সময়মত চিন্তাটা করা গেলে, প্রস্তুতি টা নেয়া গেলে,বিজ্ঞানকে সঠিকমত ব্যবহার করতে পারলে বা ব্যবহার করার সদইচ্ছাটুকু  থাকলে আমরা হয়তোবা কিছুটা রেহাই পেতাম।

আমরা কি এখনো ভাবছি, আমাদের কি করণীয় ছিল, দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কি করার ছিল, বাংলাদেশের একজন আগামীর প্রজন্ম হিসেবে ছাত্রসমাজের কিভাবে প্রস্তিতি নেবার ছিল?অবস্থার ব্যাপকতায় সহজেই প্রতিয়মান যে প্রস্তুতিটা দরকার দীর্ঘমেয়াদী এবং সুদূর প্রসারী। ওষুধ আবিষ্কার কখন হবে তা জানার জন্য হা করে চেয়ে আছি উন্নত বিশ্বের দিকে। কোন দেশ কিভাবে চিকিৎসা দেয়, কি ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করে, অর্থনীতি বাঁচাতে কোন দেশ কি প্যাকেজ ঘোষণা করছে তা দেখে তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

ছোট বেলায় শিক্ষক শেখাতেন পরীক্ষার খাতায় অন্যদেরটা দেখে লিখে নিজে কখনো ভাল কিছু করা যায় না। ও মা এ দেখি ডাহা মিথ্যা কথা বলেছিলেন শিক্ষকেরা। অন্যদেশের কর্মকান্ড দেখে আমাদের দেশের কর্মকান্ড পরিচালনা করতেছে এবার বুঝি আর নকল হল না!এগুলো হচ্ছে ঘটনার সমসাময়িক বিবেচনায় নিজের ভেতরকার তীব্র রাগের বহিঃপ্রকাশ,এ প্রকাশে কাজ হবে না। কাজটা টিকমত করতে হলে প্রস্তুতি নিতে হবে সবচেয়ে বেশী ছাত্রসমাজকে। আর সেই প্রস্তুতি টা কেমন হওয়া উচিত সেটাই বুঝবার জন্য উপরের এত কথা  ইতিমধ্যেই আমরা বুঝে গেছি আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং সীমাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য সঠিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করতে না পারাতে আমাদের আজকে বেহাল দশা।
বড় বড় বিজ্ঞানী আমাদের দেশে থাকত হত যদি সেই সুযোগ টা দেওয়া যেত তাদের। সুযোগটা দিবে যারা তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং সঠিক জ্ঞানের অভাবটাই এখানে মুখ্য।তবে এত হতাশার মাঝে থেকেও ভাল কিছু করবার প্রত্যাশা নিয়েই আমাদেরকে এগিয়ে আসতে হবে তবেই না আমরা এই যুদ্ধে জয়ী হবার প্রত্যাশা রাখি।
লকডাউন ই হতে পারে আমাদের জন্য শাঁপে বর ঘরে বসেই জ্ঞানের ঝালাইটা সেরে নেওয়া এখন কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। অনেকেই ভাবছেন, কি হবে তার নিশ্চয়তা নাই! আবার নতুন করে পড়াশুনা! নিশ্চয়তা নেই বলেই প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাই।

আবেগ দিয়ে ভাত রান্না হয়না। কিছুটা বাস্তবিক চিন্তা করতে হবে। তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবেই প্রস্তুতিটা আমাদেরকেই নিতে হবে। জ্ঞান সাগরে ডুব দিতে হবে। মানুষ পড়াশুনা করে ডিগ্রি অর্জন করে একটা ভাল চাকরি তথা পরিবার পরিজন ও ভালবাসার মানুষদের নিয়ে সুন্দর জীবনযাপন করবার জন্য। আর সেই চাকরিই থাকবে কিনা তার নিশ্চয়তাই এখন হুমকির সম্মুখীন।গবেষণায় দেখা যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ আগামী তিন মাসের ভেতর চাকরি হারাবে। কারণ, করোনা ভাইরাস শুধু মানুষ মারছে না, আমাদের কর্মক্ষেত্রগুলোকেও ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তাই এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে নিজেকে প্রস্তুত করার বিকল্প নেই।  ঘরবন্দী থাকুন নিজে কিন্ত মনটাকে ছেড়ে দিন।
ঘরে বসে সময় কাটান অনলাইন কোর্স করে। নামমাত্র সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য নয়, শেখার জন্য কোর্সগুলি করুন। শিখুন,জানুন এবং প্রয়োগ করুন তবেই না আপনি অন্যদের তুলনায় এগিয়ে যাবেন। চলুন সবাই মিলে নতুন ভাষা শিখি, গ্লোবাল কমিউনিকেশন এর জন্য এগিয়ে রাখি নিজেদেরকে। বিভিন্ন শিক্ষনীয় ব্লগে পছন্দ মত তথ্য সার্চ করে নিজের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার সময় এখন।শুধু মুভি দেখে কাজ হবে না,সাথে জানতে হবে গবেষণা কার্যক্রম, পড়তে হবে নতুন বই, তথ্য রাখতে হবে কোন দেশের কোন শিল্প কিভাবে নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখছে। সকল শিক্ষার্থীদের জন্য চমৎকার সময় এটি। ভবিষ্যত ক্যারিয়ার নির্ধারণের অনবদ্যসময়। Coursera, Udemy, Edx, Future Learn, Alison, Nonprofit, Muktopaath, Google Digital garage, এই সাইটগুলা ঘুরে আসলে নিজের পছন্দের বিষয় সম্পর্কে জানা সম্ভব খুব সহজে।

এই সংকট কেটে গেলে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সংকটটি কিভাবে মোকাবেলা করবো আমরা, সেটা নির্ধারনের সময় হচ্ছে এখন। নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য অনুযায়ী প্রস্তুতিটা সঠিকমত নেওয়া গেলে আমরাও হবো জয়ী। আমাদের ভেতর থেকেই বের হয়ে আসবে নতুন বিজ্ঞানী কিংবা গবেষক। আমাদের এই অনিশ্চয়তার হতাশাকে হতাশ করে নতুন উদ্যমে ভিন্নভাবে চিন্তা করি। আমাদের হাত ধরেই এগিয়ে যাক নতুন পৃথিবী।


প্রান্ত বিশ্বাস

প্রান্ত বিশ্বাস
৫ম ব্যাচ

2 comments:

  1. I would like to put my deep gratitude to SUISUTA for publishing my article...

    ReplyDelete

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.