গল্পটা ক্যাম্পাসের....


Sarstec Campus
Sarstec Pond View
প্রথম যখন ক্যাম্পাসে আসি তখন খুব খারাপ লাগত.. ছোট ক্যাম্পাস, খুব অল্প স্টুডেন্ট আর কঠিন ক্লাসের শিডিউল খুব বদ্ধ বৃদ্ধ লাগত । ক্লাসমেট দের ও খুব সংকীর্ণমনা মনে হত প্রথম দিকে... কি রকম রোবটের মত ক্লাসে আসছে. ক্লাস করছে চলে যাচ্ছে । কোন ইনজয় করার কিছু নাই...

কিন্তু আমার ভুল ভাঙতে খুব দেরী লাগে নাই।। ২য় বর্ষের উঠার পর( যখন দেখলাম আর কোন উপায় নাই ...) সহসাই ভাল লাগতে শুরু করল । ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা, ফুলটাইম ক্লাস( সকাল ৮ টা থেকে লাঞ্চ বিরতি ছাড়া টানা সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লাস , টুকটাক বার্থ ডে সেলিব্রেশন , ঘুরতে যাওয়া.. মাঝে মাঝে এর ওর বাসায় দাওয়াত.. ভালই যাচ্ছিল দিনগুলি.. । বার্থডে এর প্রসঙ্গ যখন আসল তখন একটা গল্প বলেই ফেলি । আমার বান্ধবী দোলা এর বার্থডে । দোলা এর শখ ই ছিল আমাদের খাওয়ানো.

তো দোলা এর বার্থডে সেলিব্রেট হবে রোজ গার্ডেন এ । আমরা বেশ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত.. আমি একটু দেরি করেই গিয়েছিলাম । মোটামুটি সব সিট দখল..খুব সুন্দর মুখশ্রী এক মেয়ের পাশে সিট ফাঁকা আছে । কি আর করা ফাঁকা সিট দখল নিলাম.. পাশে অপরিচিত মেয়ে তাই একটু ভাব নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম । হঠাৎ মেয়েটি বলে উঠলো ভাল আছিস নাঈম? আমার তখন ভূত দেখার মত অবস্থা!অপরিচিত মেয়েটির গলাটা খুব চেনা,অনেক শুনেছি.আরে এযে ইফা ! আসলে ইফার চোখ ছাড়া মুখশ্রী আগে যে দেখি নাই! এ নিয়ে অনেক হাসি ঠাট্টা হয়েছে অনেক । ৩য় বর্ষের শুরুর দিকে এসে ছোট ক্যাম্পাসের আসল মজা পাওয়া শুরু করলাম । সবাই সবাইকে চিনে.. সব কিছু গ্রুপের মধ্যে । নতুন ক্যাম্পাস . অনেক কিছু করার সুযোগ আছে..। ক্যাম্পাস টা তখন জীবন হয়ে গেছে । প্রথম বর্ষের সংকীর্ণমনা মনে হওয়া বন্ধু গুলি তখন সবাই আত্মার আত্মীয় হয়ে গেছে । না দেখলে ভাল্লাগে না.. । সব ভাল গেলেও আমাদের ফাইনাল ইয়ার টা খুব একটা ভাল যায় নি । মাত্র ৮ মাসে ১ বছরের কোর্স শেষ করেছে.. । ইউনিভার্সিটি এফিলিয়েশন চেঞ্জ হওয়ায় যত দ্রুত পারছে বের করে দিছে । ফাইনাল এক্সাম এর ১০ দিন আগে এসেসমেন্ট এক্সাম এর মাঝে এক দিনে ২টা এক্সাম দিয়ে একদিন গ্যাপ করে আমাদের Rag ডে করা লাগছিল । যে ক্যাম্পাস আমাকে এত্ত ভাললাগা দিয়েছে সেই ক্যাম্পাস এর জন্য অনেক উদ্যোগ নেয়ার ইচ্ছা ছিল সময়ের জন্য পারিনি ।

বাস প্রায় অফিসের সামনে চলে আসছে । সকাল ৮ টা থেকে অফিস । কোথায় যেনো পড়েছিলাম কেউ যদি সকাল ৮ টার ক্লাস ঠিক ভাবে না করে তার সারাজীবন সকাল ৮ টায় অফিস করতে হয় । চার বছরই সকাল টার ক্লাস মিস গিয়েছে বা পিছনের দরজা থেকে ক্লাসে ঢুকেছি । জানি না কি আছে কপালে..
সুইঁ-সুতা দেয়াল পত্রিকার নতুন কমিটিকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি । সম্পাদক হিসেবে তৌকির তমাল আশা করি তার যোগ্যতার পরিচয় রাখবে ।
আর ৫ ম ব্যাচের সৌজন্যে এই সংখ্যায় আমি ৫ম ব্যাচকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি । গ্র্যাজুয়েশন শেষে তাদের সুন্দর ক্যারিয়ার এবং সুন্দর জীবন কামনা করছি ।
ধন্যবাদ সবাইকে ।

আবদুল্লাহ আল নাঈম

আবদুল্লাহ আল নাঈম 
৩য় ব্যাচ 
অফিসার ,গার্মেন্টস ওয়াশিং , ফকির ফ্যাশন লিমিটেড ।




No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.