নতুন ডায়েরির শেষ চিঠি

নতুন ডায়েরির শেষ চিঠি

পৃথিবীতে সবাই তোমাকে ভালবাসবে না, সবাই তোমার মূল্য বুঝবে না,এটা মেনে নিতে হবে। পৃথিবীর মানুষগুলোকে বড়ই অদ্ভুত লাগছে মিল্টনের। তার কাছে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটা অনেক যন্ত্রণার।

মানুষ কোন বস্তু হারিয়ে ফেললে, তার বিকল্প কিছু খোঁজার চেষ্টা করে।অার তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ যদি তার কাছ থেকে চলে যায়।তখন সে কি করবে এর কোন উত্তর মিল্টনের নাই।

মিল্টন জীবন অার মৃত্যুকে অনেক কাছ থেকে দেখছে। হয়তো তার কাছে জীবন-মৃত্যু সমান হয়ে গিয়েছিল বলেই সম্ভব। অাঁধার কেটে গেলে আলো আসবেই। কিন্তু অাঁধারকে যখন স্বেচ্ছায় কাছে বরণ করে নেয় তখন কোন অালো তার কাছে পৌঁছাতে পারে না।

বড় দুবির্ষহ জীবনযাপন করছে মিল্টন। তার জীবনকে এত কাছ থেকে দেখছি, যা কখনই দেখতে চাইবে না তার কাছের কোন মানুষ। তাকে হাসিখুশি দেখছি একসময়।হয়ত তার জীবনের মানেটা তখন অন্য রকম ছিল। নিয়মত পড়াশোনা করতো, সবকিছুই যেন সাজানো গোছানো জীবন ছিল।হঠাৎ মিল্টনের এমন পরিবর্তন কখনও ভাবতেও পারি নাই। তার একটা বিষয় খারাপ লাগতো, কখনও বলা হয় নি মিল্টনকে, সে সবসময়ই একা থাকতো।তার জগৎটা অন্যরকম,এমন অদ্ভুত ছেলে দেখি নাই অামি।মাঝে মাঝে ঘুম ভাঙলে দেখতে পেতাম কিছু একটা লিখছে অার চোখের অশ্রু বির্সজন দিচ্ছে।
কয়েকদিন জিজ্ঞসা করছি, উত্তরে শুধু পেয়েছি, আরে কিছু না। একটা কথা বলেছিল মিল্টন আমায়

জীবনের এমন কিছু কথা, মানুষ থাকবে যা কখনই তুমি কাওকে বলতে পারবে না! অামি সেদিন কথাটা শুধু শুনেছিলাম কিছু বলার মতো ভাষা ছিল না।

জীবনটা যখন মিল্টনের জায়গায় দাঁড় করাই, শুধু শূন্যতায় ঘেরা জীবন দেখতে পাই। অামার কাছে মিল্টন থাকবে আজীবন অামার মাঝে। যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন।কখনও ভুলবো না মিল্টনের এত যন্ত্রণা। ওর অনেক কাছে ছিলাম, কিন্তু কখনও ওর দুঃখকে দূর করতে পারি নাই ব্যর্থতা অামার।

মিল্টন কাওকে কিছু না বলে চলে যায়।কোথায় যায় কেও বলতে পারে না। জানি না সে কেমন অাছে?
এই পৃথিবীর বুকে আছে কি না তাও জানি না?
সে একটা জেদি ছেলে ছিল, কখনও না শুনতে পারতো না। ওর সবথেকে ভাল একটা গুণ ছিল যাকে বিশ্বাস করতো তাকে অন্ধের মতো এবং সবসময় সত্যি কথা বলতো। ও বলতো মাঝে মাঝে অামি তিনজনের কাছে কখনও মিথ্যা বলি না এক মা, বাকী দুজনকে বলে নাই। ও লোক দেখানো কাজ করতো না,যা করতো মন থেকে ভালবেসে বড় অমায়িক মানুষ ছিল।

মানুষের মনের গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করতো,
তার জায়গাই নিজেকে বসিয়ে চিন্তা করার এক অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল মিল্টনের। যেটা সবাই পারবে না,
নিজের থেকে অন্যকে নিয়ে বেশী ভাবতো বলেই তার কষ্টটা সবার থেকে বেশী ছিল।

ওর নতুন একটা ডায়েরির খুঁজে পেয়েছিলাম, সেখানে একটা ছবি ছিলো,অদ্ভুত মায়া জড়িত চেহারা ছিলো মেয়েটার।কখনও আমি দেখি নাই মেয়েটার সাথে মিল্টনকে।

কিছু কথা লেখা ছিলো,

"তোমাকে কি বলে ডাকবো অাজ জানি না,
তোমাকে আজ হারিয়ে ফেলেছি অামি,
এতে তোমার কোন দোষ নাই,
অামার নিষ্ঠুর ভাগ্যের এটাই নিয়তি ছিলো
তোমার সাথে কাটানো মুহুর্তগুলো আমি রেখেদিলাম
তোমার কষ্টে আমি কষ্ট পাবো।
অামার কষ্টে তুমি কখনও কষ্ট পাও আমি চাইব না।
দূরত্বের ব্যবধান বাড়লে ভালবাসা কমে যায় কি না জানি না,

তবে কষ্টের পরিমাণটা যে কতটা হয় তা এতদিনে বুঝতে পারছি,তোমার সুখের সাথী হয়ে থাকতে পারলাম না। একটা বিষয় কি জানো,ভাল কিছু আমার সাথে বেশী দিন থাকে না,এটা অাবারও প্রমানিত হলো,
আর চিন্তা করো না, যে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করিয়েছ তা মেনে চলবো। এই লেখাটা তোমার কাছে পৌঁছাবে না কোনদিনও। এটা আমার নিজের কাছেই রেখে দিবো।ভাল থাকো,তোমার ছায়া হয়ে থাকবো। তোমার চোখ থেকে যেন কখনও অামার জন্য এক ফোঁটা অশ্রু বের না হয়। সবাইকে নিয়ে সবসময় ভাল থাকবা"
ইতি 
---------------
বাকীটা আজ আর লিখতে পারলাম না
বসিয়ে নিও।
মিল্টনের এই চিঠিটা পড়ে হয়ত বুঝেছিলাম ওর কষ্টটা কোথায় ছিল।


প্রসেনজীৎ পাল

প্রসেনজীৎ পাল
৭ম ব্যাচ

No comments

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.