এক সাহসী শিমুর গল্প

এক সাহসী শিমুর গল্প

ট্রেনে উঠে বসা মাত্রই পাশ থেকে শিমু বলে উঠলো তুমি কি রোযা?আমি ত পুরাই অবাক!চিনে না জানে না একটা মেয়ে হঠাৎ করে বলতেছে এসব।যাই হোক বললাম হ্যাঁ আমি রোযা।তুমিও কি রোযা?
~সে বললো হ্যাঁ আমিও
সবগুলো রাখছো?
~নাহ তিনটা রাখি নাই।আম্মা ডাক দেই নাই বলে।
ও আচ্ছা।তোমার নাম কি?
~শিমু
আচ্ছা শিমু আমাকে কি দেখলে রোযা মনে হয় না?
~হুম মনে হই ত
তাহলে যে জিজ্ঞেস করলে?
~আরে ভাইয়া এমনি
আচ্ছা তোমার বাসা কোথায়?
~পিয়ারপুর,তোমার?
আমরো ওখানেই চিনো না আমাকে?কোনো দিন দেখো নাই?একটু মিথ্যে বললাম ওর সাথে।
~না তো দেখি নি তো
ও আচ্ছা তোমার ভাই বোন নেই?
~আছে ৬ ভাই ৩ বোন।আর তোমার মত আমার ভাই আছে।
ও সে কি করে?
~বাজারে চুল কাটে।
ভালো।তার পাশে ছিল ২টা পলিথিনের ব্যাগ।সেগুলোতে ছিল চুড়ি,মালা,কানের দুল ইত্যাদি।বললাম এগুলা দিয়ে কি করবা?

~বললো তার আম্মা এগুলা বিক্রি করে।তার আম্মাকে দেখিয়ে বললো ওই যে দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের বাইরে প্লাটফ্রমে।আন্টি আসলো।আচ্ছা আন্টি এই চুড়িগুলা কি নীল কালার নাই?
~নাহ একটাই
~জানেন নীল কালারের এই মাটির চুড়িগুলা খুব সুন্দর লাগে আমার কাছে
~শিমুও বললো হুম আমারো

আন্টিও অনেক কথা বললো।একটু পর শিমুদের সীটে শিমুর পরিচিত আর একজন মহিলা আসলো।সো সেখানে শিমু ছাড়াই তিনজন হয়ে গেলো।তাই তার দাঁড়িয়ে থাকা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়লো।আমার সীটে আমি আর একটা মহিলা।তাই কষ্ট করে আর একজন বসা যাবো।তাই শিমুকে বললাম আমার সীটে বসতে।
~শিমু বসলো
আচ্ছা শিমু তর বয়স কত?
~আমি তো জানি না
কি বলস।হুম সত্যি।আমার আনুমানিক ৯বছর হবে সেই সাহসী মেয়ের।আচ্ছা শিমু ওই পাতা গুলা চিনস?
~হুম এগুলা তো কচু পাতা।আমরা মাঝে মাঝেই খাই।
জানস?
~কি
আমার কচুপাতা ভর্তা খুব ভালো লাগে।বাড়ি আসলেই খাই।আচ্ছা তুই কিসে পড়স?
~পড়ি না।শুধু মাদ্রাসায় যাই।
ওয়াও ভালো। ওইটাই তো সবচেয়ে ভালো পড়া।আচ্ছা তুই কি পড়তেছস।কায়দা না ছিবাড়া?
~ছিবাড়া
ভালো করে পড়বি কিন্তু?
~আইচ্ছা।
তর স্টেশনে যাইতে আর কতখন লাগবে?
~১মিনিট

স্টেশনে এসে গেলো ট্রেন।আমি ভাবতেছি এই সাহসী মেয়েকে কি এমন কি আমার কাছে আছে যা তাকে দেওয়া যায়?তেমন কিছু ছিল না।ব্যাগে একটা ডেইরী মিল্ক চকলেট ছিল।এই শিমু নে এটা।

~আমি তো রোযা।আন্টিও বলে ও তো রোযা?
সমস্যা নাই পরে খাবে।
~ওকে ভাইয়া।আচ্ছা ভাইয়া চলো আমাদের বাড়িতে যাই?সাথে আন্টিও বললেন বাবা যাই?
নাহ অন্য কোনো সময় যামুনি

~শিমু নেমে যাচ্ছে আর আমাকে বার বার বিদায় জানাচ্ছে।
আমিও বিদায় দিলাম।ট্রেন ছাড়তে ১মিনিট বাকি।শিমু দেখি কিছুটা সামনে গিয়ে আবার দাঁড়িয়ে আছে।
~ট্রেন যাচ্ছে এবার।যখন শিমুকে ক্রসিং করছে তখন শিমু মিষ্টি হেসে ভাইয়া ভাইয়া নেমে যাও নেমে যাও বলে চিল্লাইতেছে।
আমিও হেসে হেসে আবার দেখা হবে ভাইয়া।ভালো থেকো।টাটা টাটা

বেঁচে থাকুক হাজারো শিমুর মত সাদাসিদে প্রাণ।জানি না কেন যে,এই সম্পর্কগুলো চিরস্থায়ী হয় না।কেন ক্ষণস্থায়ী??
বেঁচে থাকুক শিমুর মত সংগ্রামী মেয়ে,সাহসী মেয়ে।

দোয়া করি বইন তকে।ভালো থাক সর্বদা।মিস করবো।যদি কখনও আবার দেখা হয়।।

তোফায়েল আলম

তোফায়েল আলম
নবম ব্যাচ

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.