শহুরে চাঁদ

শহুরে চাঁদ
শহুরে চাঁদ


আকাশ জুড়ে সোনার থালা উঠেছে।অথচ শহুরে আকাশে কখনো এত জ্বলজ্বলে চাঁদ দেখা যায় না।কিন্তু আজকের চাঁদ'টাকে অদ্ভুত রকমের সুন্দর লাগছে।চাঁদ'টা এত কাছে চলে এসেছে যে,মনে হচ্ছে ১০ তলা বিল্ডিং এর উপর থেকেই হাত বাড়ালেই চাঁদ'টাকে ছোঁয়া যাবে।চাঁদের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের খাদগুলো বেয়ে চাঁদের বুকে হাঁটাও যাবে।কিন্তু এ মুহূর্তে অমি বসে আছে শহুরে নদীর যান্ত্রিক তীরে।অদ্ভুত সুন্দর চাঁদ'টাকে অবাক বিস্ময় নিয়ে বিমোহিত হয়ে দেখছে।দেখতে দেখতে হঠাৎ অমি'র মনে হল চাঁদের গায়ের খাদ গুলো যেন সত্যি সত্যিই কোন বৃদ্ধার অবয়ব তৈরী করেছে,যে অনবরত সুতা কেটে যাচ্ছে চড়কায়।আর বসে বসে ভাবছে হাজার বছর ধরে মানুষ এই অবয়ব নিয়ে ই কত কল্পনা তৈরী করেছে,কত স্বপ্ন দেখেছে।একথা ভাবতে ভাবতেই মনে হল চড়কা কাটা বুড়ি'র মুখখানি এখন আর দেখা যাচ্ছে না,সেখানে দেখা যাচ্ছে হিজিবিজি মার্কা পাহাড়ের খাঁদ।তারপর,অমি'র হঠাৎ করেই দেখলো পাহাড়ের খাঁদগুলো স্তরে স্তরে সাজিয়ে নতুন একখানা মুখাবয়ব তৈরি করছে।ভাল করে একটু মনোযোগ দিয়ে চাঁদের দিকে তাকাতেই মনে হল নতুনসৃষ্ট মুখখানা ঠিক রিমু'র মতো।তাহলে রিমু ও কি চাঁদ দেখছে?কোন জানালা,উঠোন কিংবা ছাদে দাঁড়িয়ে কিংবা তার স্বপ্নের উঁচুতলার ব্যালকনিতে?না কি চাঁদ'টা ই দেখছে রিমু'কে? এ প্রশ্ন দু'টোর উত্তর অমি কখনোই জানতে পারবে না জেনেও নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে হাসলো।এ মুহূর্তে চাঁদ'টাকে ভীষনরকম অসহ্য লাগছে অমি'র কাছে। তারপর চশমা'টা মুছে আবার চোখে দিতেই দেখলো সেই পরিচিত রূপকথার চড়কা কাটা বুড়ির অবয়ব।


ঠিক তখনি লক্ষ কোটি মাইল দূরে বসে রিমু ও উঁচুতলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছিল অন্যকারো সাথে।

পারভেজ ভাই

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.