ফেরিওয়ালা-PROSENJIT PAUL


কোন কবি সাহিত্যেকদের মতো করে, তাদের গল্পের নায়িকার মতো করে, তোমায় সাজাতে পারবো না।পারবো না হাজার একটা গোলাপ নিয়ে এসে তোমার সামনে ধরতে।দিন শেষে তোমায় যা দিতে পারবো-

এমন সব কথা মেঘালয়ের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তাদের এই সম্পর্কের শুরুটা বেশী দিনের না হলেও অাছে মিষ্টি মধুর সম্পর্কের একটা অালাদা খুনসুটি। এইভাবে তাদের সম্পর্ক একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে।এর মধ্যে চলে আসে ভালবাসা দিবস ১৪ ই ফেব্রুয়ারি।


যদিও মেঘালয়ের এসব দিবসের তার কাছে কোন গুরুত্ব আদৌও ছিল কি না জানি না। নিলা তার কাছে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি বিশেষ কিছু চায়। কিন্ত মেঘালয় ভেবে পাচ্ছে না কি দেবে, এদিকে তার পকেটের অবস্থা করুন। নিলা খুবই ধনী পরিবারের হলেও তার মধ্যে কোন দাম্ভিকতার কোন স্পর্শ, মেঘালয়ের চোখে পড়ে নি। এমন একটা মেয়েকে, সে কি করে তার জীবনের সাথে অাবদ্ধ করে ফেলল বুঝে উঠতে পারে না। অার এখন সে এসব নিয়ে ভাবতেও চায় না।মেঘালয়ের প্রতিটা সময় কাটে এখন নিলাকে নিয়ে।

মনের মধ্যে কৌতূহল অার একটা ভয় নিয়ে, তার এক একটা দিন কাটতে থাকে।দিন যতই যাই তার ভয়টা ততই বাড়তে থাকে। তাকে সে কোন দামী উপহার দিতে পারবে না, কারণ নিলা ভাববে এমন পরিবারের মেয়ে বলে অামাকে খুশি করার জন্য এমন উপহার। কৃত্রিমতা দিয়ে ভালবাসার মানুষের সাথে অভিনয় করতে পারবো না। এমন কিছু দিতে চাই, যা পেলে ও কখনও ভাববে না, অামি ওকে শুধু ওর মতো করে ভালবাসি। অামি অামার মতো করে ভালবাসা দিতে চাই।

সারা রাত এমনি করেই কেটে যাচ্ছে তার । মোয়াজ্জিনের অাযানের ধ্বনি তার কানে অাসতে থাকে। একটা অস্পষ্ট কোন মিষ্টি সুর অথবা পাখির ডাক শুনতে পায়। কিন্তু সেটা কি বুঝতে পারছে না। এদিকে তার বুকের মাঝে হালকা ব্যথা
অনুভব হয়। সে ভুলেই গেছে প্রতিমাসে তার একটা দামী ওষুধ লাগে। নিলার ভাবনায় সে এতটাই বিভোর যে কোন কিছুর প্রতি কোন খেয়ালই নাই।

নিলা প্রতিনিয়ত তার খোঁজ খবর নিতে থাকে, এমনকি তার পরিবারের সদস্যদেরও। সেটা মেঘালয় অনেক পরে জানতে পারে। মেঘালয়ের সমস্ত কিছুই নিলা তার নিজের করে নিয়েছে। এমন একটা মেয়ের সাথে ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশেষ কোন উপহারের সম্পর্ক থাকতে পারে কি। এত ভাবার কোন মানেই হয় না। এমনটা ভেবে টেবিল থেকে বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরে মেঘালয়। দুপুরের দিক প্রতিদিনের ন্যায় নিলার ফোন পেয়েই ঘুম ভাঙ্গল তার। কিছুক্ষণ তাদের ভালবাসার মিষ্টি মধুর খুনসুটি চলতে থাকলো।



বিকালে টিউশনি থেকে ফেরার পথে এক ফেরিওয়ালাকে দেখে তার কাছে গিয়ে মেঘালয় দেখতে থাকল, কি কি অাছে। সে কিছু না ভেবে দু জোড়া কাচের রঙিন চুড়ি, দুজোড়া টিপর পাতা কালো আর লাল, দুজোড়া মাথার ক্লিপ,অারো কিছু জিনিস কিনল। তবে সবই দুজোড়া করে। কত জিনিসের নাম সে হয়ত জানেই না। তবে এতটুকু জানে যে এটা মেয়েদের কারণ তার বোন সেঁজুতিকে এগুলো প্রায়ই কিনতে দেখে। সব মিলেই প্রায়ই ১১৯ টাকার মতো হবে।ফেরিওয়ালা তাকে ১১০ টাকা দিতে বলল,কিন্তু মেঘালয় ১১৯ টাকাই দিবে, দোকান থেকে টাকা খুচরা করে দিবার সময়, ফেরিওয়ালা মামা একটু কৌতূহল বশতই জানতে চাইল, কেন ১১৯ টাকাই দিতে হবে। মেঘালয় বললো, তার ভালবাসার মানুষটির জন্য প্রথম কিছু কিনতে এসেছে, তার সবটুকুই দিতে চায় কোন ফাঁকি নাই। সে ফেরিওয়ালার কাছ থেকে পুরোটা কিনেই তাকে উপহার দিবো।

ফেরিওয়ালা মামার মুখে ভালবাসার একটা হাসি দেখতে পেলাম। সে বুঝতে পেরছে, তাকে আর বাকীটা বলতে হয় নি। শুধু একটা কথায় বললো, "মামা অাপনার মনটা ভীষণ ভালো।অামি দীর্ঘ ২০ বছর ফেরি করি রাস্তায়, কাউকে অাপনার মতো করে ভাবতে দেখি নাই।"

মেঘালয় তাকে অনুরোধ করলো, উপহারগুলো একটা প্যাকেটে করে দিতে।ফেরিওয়ালা মামা এত যত্ন অার ভালবাসা নিয়ে প্যাকেটটা করলো, না দেখলে সে বিশ্বাসই করতে পারতো না। এর জন্য তার আর কোন এক্সটা টাকা অথবা বকসিস দেওয়া লাগল না। নামীদামি শপিং মল থেকে কিনলে ভালবাসার এই পরশ পাওয়া যেত না। এই প্যাকেটটা নিয়ে, মেঘালয় অনেক যত্ন অার ভালবাসা নিয়ে বাসায় ফিরে এলো।

অবেশেষ ১৪ই ফেব্রুয়ারি এসে গেল। মেঘালয় অনেক খুশী, সে তার মনের মতে করে নিলাকে কোন কিছু দিতে পারবে বলে। নিলা তার জন্য অপেক্ষা করে সবসময়, "অাজ অামিই অাগে যাব"। তাদের নিধার্রিত জায়গা নদীর পাশের বটবৃক্ষের ছায়া। এটাই তাদের ভালবাসার সাক্ষী। ওখানে পৌঁছে নিলাকে ফোন দিল মেঘালয়, "তোমার অাসতে কত সময় লাগবে?" উত্তরটা এমন ছিল, অাজ দেখা না করলে হয় না। কথাটা শুনে মেঘালয় অাকাশ থেকে পড়লো মনে হয়। কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল। তারপর নিলা বললো, মজা করছিলাম। মেঘালয়ের মনের মধ্যে কিছুক্ষণ অাগে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছিল এবার তা শান্ত হলো। এমন সব সিরিয়াস মুহুর্তে কোন মজা করলে তা অানন্দের থেকে বেশী কষ্টের কারণ হয়। এটা নিলা বুঝতে পেরে তার কাছে ক্ষমা চাইল, "অার এমনটা হবে না মেঘালয়।অামি রাস্তায় এখন, অপেক্ষা করো দশ মিনিট।"

মেঘালয়ের মনে ঝড়টা এখনও শান্ত হয় নি,সে ভাবলো সত্যি অাসবে তো।বার বার হাত ঘড়িটা দেখতে থাকল।সময় যেন কাটেই না।অাজ তার সিনেমার ছবির নায়কের মতো নায়কার জন্য অপেক্ষা দৃশ্য মনে পড়ছে।নিলা বট গাছের অাঁড়ালে দাঁড়িয়ে অাছে, মেঘালয় বুঝতে পারে নি। পেছন থেকে মেঘালয়কে ঝাপটে ধরলো। অন্যরকম এক ভাল লাগা অনুভূত হল। সব দুঃচিন্তার অবসান হলো এবার। দুজনের কথাবার্তা চলতে থাকলো, একসময় নিলার চোখটা বাম হাত দিয়ে ডেকে, ডান হাতে তার প্যাকেটটা অতি সযত্নে তার হাতের ওপর রাখলো। নিলা প্যাকেটটা দেখে অনেক খুশী, এত খুশী যে সে প্যাকেটটা সে তার কাছে রেখে দিবে অাজীবন। প্যাকেটটা খুলে সে অারো বেশী রোমাঞ্চিত, ভেতরের জিনিসগুলো তার কাছে কোটি টাকার থেকে মূল্যবান হবে।অাসলে ভালবাসার জিনিসকে কোন কিছু দিয়ে মূল্যায়ন করাটা নিরর্থক।এটা নিলার কাছে এখন পর্যন্ত সবথেকে সেরা উপহার।

নদীর পাড় দিয়ে হাঁটতে থাকে হাত ধরে দুজন কিছু সময়।মেঘালয়ের চোখে এখন শুধু নিলাকে নিয়ে স্বপ্ন। নিলা এভাবে বাকী জীবনটা তার সাথে কাটাতে চাই। "জীবনে সবসময় অামাকে পাশে পাবে কথা দিলাম হিমালয় তোমাকে।"

লিখেছেনঃ PROSENJIT PAUL, ৭ম ব্যাচ

No comments

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.