আমি সুমন নই-Parvej Arjai Khan



বইমেলায় হাটছি এমন সময় পিছন থেকে মনে হল কে যেন ব্যাগ টানছে।পিছন ফিরে দেখি এক অষ্টাদশী ললনা। পিছন ফিরতেই বললো,"আপনি? সুমন........" -না তো। -Sorry. তারপর মেয়েটি যেটুকু উৎসাহ উদ্দীপনায় এসেছিল,ঠিক তার দ্বিগুণ হতাশ হয়ে মন খারাপ করে ভীড়ের মাঝে হারিয়ে গেল। মেয়েটির মন খারাপ দৃশ্য দেখে আজ কিছুক্ষনের জন্য সুমন হতে ইচ্ছে হয়েছিল।তারপর হঠাৎ করেই এক অদ্ভুত চিন্তা মাথায় এল।উল্টো মেয়েটাকে খুজতে শুরু করলাম।কিন্তু মেয়েটাকে তো ঠিক ভাবে খেয়াল করি নি।শুধু খেয়াল করছিলাম মেয়েটার সাথে একটা সবুজাভ সাইডব্যাগ আছে।এটাকেই সম্বল করে ভীড়ের মাঝে ঢুকে পড়লাম।কিছুক্ষন খোঁজাখুঁজি করার পর মেয়েটাকে যখন পেলাম ততক্ষনে সবুজাভ সাইডব্যাগ অন্যকোন কালার হয়ে গেছে।অর্থাৎ সন্ধ্যা লেগে গেছে তখন।দেখি ভীড় থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে ভীড় দেখছে সে।অথচ আমি তাকে খুজে মরেছি ভীড়ের ভিতর।আমরা আসলে এমন ই সাতপাঁচ না ভেবে গৎবাঁধা নিয়মে হাটা শুরু করি।অথচ মাঝে মাঝে একটু গৎবাঁধা নিয়মের বাইরে গিয়ে হাটতে হয়।গোধুলির আলোর মাঝেই তার কাছে যেয়ে বললাম, -"আপনি এখানে কি করেন? আপনাকে আরো আমি খুজে খুজে হয়রান।" -ক্যানো।আর আপনি ই বা কে?আর আপনাকে তো চিনি না।আর আমাকে খুঁজছেন ই বা ক্যানো? -আরে বা! আপনি ই তো আমাকে ডাকলেন একটু আগে।আমি হলাম সুমন........... -ও হ্যা। মনে পড়েছে আপনার নাম তাহলে সুমন। শেষ পর্যন্ত......
-থামেন থামেন।একে তো আমি সুমন নই।আর শেষ পর্যন্ত কি? কিন্তু আপনি যে বললেন,"আপনি সুমন।" কথাটা শেষ করতে পারলাম কই? শেষ করার আগেই তো মুখ থেকে ছো মেরে নিয়ে গেলেন কথাটা। -ও।আবার Sorry তাহলে।আচ্ছা আপনি আমাকে খুজছিলেন ক্যানো সেটা কি বলবেন? -একটা প্রশ্ন করবো।তাই খুজছি। আচ্ছা বলেন শুনি আপনার প্রশ্ন। -আচ্ছা এই সুমন টা কে?আর সুমনের সাথে আমার মিলটাই বা কোথায়? আসলে সুমন টাকে আমি নিজেই জানি না।তবে নিয়মানুযায়ী কোন একজন ছেলের নাম হবে।আবার এ নামে একজন শিল্পী ও আছে "কবীর সুমন"।যেহেতু কোন সুমনকেই চিনি না তাই সুমনের সাথে মিল কোথায় বলতে পারছি না। -এ কেমন কথা?তাহলে চলন্ত মানুষকে জোর করে থামিয়ে নাম সুমন কি না, এ প্রশ্ন করার মানে কি? -আবার একশ sorry। আপনাকে বিরক্ত করার জন্যে।আসলে এটা আমার অদ্ভুত সখ।মানুষকে থামিয়ে নাম জিজ্ঞাসা করা।অদ্ভুতুড়ে না। -সে তো অদ্ভুতুড়েই আবার পাগলাটেও বটে।পাগল বলে না কেউ।আর নাম মিলিছে একবার ও। -অনেকেই বলে পাগল।আর নাম মিলে মাঝে মাঝে।তখন নিজের কাছে অদ্ভুত ভালো লাগে।নিজেকে মনে হয় শার্লক হোমস।আচ্ছা বাদ দেন।আপনার পরিচয়? -ও আমি?রৌদ্র হাসান, রুদ্র নয়।আপনি? -আমি কাজল।তা আপনাকে দেখে একটু হতাশান্ন লাগছে। হেতু জানতে পারি? -আসলে বইমেলায় আমার একটা কবিতার বই বের হয়েছে। " কবিতায় তুমি" বইয়ের নাম।কিন্তু এখনো দশ কপিও বিক্রি হয় নি। -ও আচ্ছা। নতুন কবি তাহলে? - কবি তো কবি ই।নতুন আর পুরাতন কি? -আচ্ছা নতুন কবি থাকেন তাহলে।দেখি কারো সাথে আমার দেয়া নাম মিলে কি না। বলেই ভেংচি দিয়ে হুঠ করে হারিয়ে গেল সেই অষ্টাদশী ললনা।আমি বইমেলা থেকে চলে এসেছি হতাশ হয়ে।আর ওমুখো হইনি সপ্তাহখানিক।আর যা ই হোক আমার কবিতার বই বিক্রি হবে না। সপ্তাহখানিক পরে হঠাৎ প্রকাশকের ফোন,"কি কবি সাহেব কোথায় আপনি?কোন খোজ খবর ই নাই।আপনার ভক্তবৃন্দ তো দিন দিন বাড়ছে।তাদের তো অটোগ্রাফ ও দিতে হয়।এত পাবলিসিটি করলেন,এত কিছু করলেন আর এখন আপনার খোজ নেই।আর আপনার নাম্বার ই বা বন্ধ ক্যানো?" - কি বলছেন এসব। কিছুই তো বুঝছি না।আর নাম্বারটায় একটু ঝামেলা হয়েছিল।তাই বন্ধ রেখেছিলাম। আপনার কিছুই বুঝতে হবে না।আপনি আজ ৩ টায় স্টলে চলে আসেন। -যেতে যেতে ফার্মগেট এ যেয়ে জ্যামে পড়লাম।জ্যামে পড়ে নিজেই অদ্ভুত হয়ে গেছি।দেখি এক বিশাল বিলবোর্ড এ ঝুলছে আমার বইয়ের বিজ্ঞাপন।শাহবাগে যেয়ে দেখি আরেক বিশাল বিলবোর্ড।বইমেলার পথ ধরে যত এগুচ্ছি ততই অভিভূত হচ্ছি।দেখি দেয়ালে দেয়ালে কবিতার লাইন দিয়ে ছোট ছোট ব্যানারে ঝুলছে বইয়ের বিজ্ঞাপন।কেউ কেউ দাড়িয়ে পড়ছেও কেউ।প্রত্যেকটা ব্যানারেই ছোট খাট একটা জটলার মত। স্টলে যেয়ে দেখেই প্রকাশক বসতে দেয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগলো।বললো,"মাশাল্লাহ তৃতীয় সংস্করণ বের করলাম।আপনি তো সেই গেলেন,আর এলেন ই না।বিজ্ঞাপন লাগাইয়া তো পুরা ফাটাই দিছেন ঢাকা শহর।" তার কথা পুরা মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।মাথার নাটবল্টু খুলে যাচ্ছে, নিউরনগুলা কি করবে বুঝতে না পেরে ঝিম ধরে আছে।এর মাঝেই প্রকাশক একটা খাম দিয়ে বললো,"যা কথা ছিল তার বেশি দিয়েছি।সামনের বইটা আমার থেকেই বের করতে হবে আপনার।" এর মাঝেই এক প্রেমিক,প্রেমিকার জন্যে নিয়ে গেল বইটা।বই নিয়েই চলে যাচ্ছিল। প্রকাশক তাকে বললো, "আরে ভাই, কবির বই নিবেন অথচ কবির অটোগ্রাফ না নিয়েই চলে যাবেন?" ক্রেতাযুগল ইতস্ততভাবে ভাবে বই এগিয়ে দিল প্রকাশকের কাছে।প্রকাশক বললো, "আরে ভাই!কবি'র কাছে দ্যান।আমি কি কবি না'কি?এই যে কবি বলে দেখিয়ে দিল।" কাছে এসে বললো,"রিমু,তোমার হাতের আঙ্গুলছোয়া স্মার্টফোন হতে চাই।ইতি অমি।" লিখে দিয়ে অটোগ্রাফ দিলাম প্রথমবারের মত।সেদিন ই বই বিক্রি হলো ৫০ টি। আসার সময় হাটছি আর ভাবছি ব্যাপারটা কি? ভাবতে ভাবতে ফোন দিলাম স্টলের বিক্রয়কর্মী আলম কে। বললাম," কাহিনী কি?বই বিক্রি হওয়া শুরু হলো কেবে থেকে?" আলম বলতে শুরু করলো,"শেষ যে দিন এসেছিলেন,সে দিন থেকেই।ঐ দিন রাতেই স্টল বন্ধ করার কিছুক্ষন আগে এক মেয়ে এসে ২০ টা বই কিনে নিয়ে গেল।তারপর দিন থেকে তো আপনি ই বিলবোর্ড, ব্যানারের ব্যবস্থা করলেন।তারপর থেকেই শুরু।প্রতিদিন ২০-৩০ খানা বই বিক্রি হয় আপনার।" -ও আচ্ছা।কাহিনী বুঝতে পারলাম এখন।এসব কাজ কারবার তাহলে সেই আগুন্তক অষ্টাদশী ললনার। আগুন্তক ললনাকে অনেক খুজেছিলাম কোথাও কোন খোজ পাই নি।এমনকি কোন সংকেত ও।সংকেত ক্যানো রাখে নি,সেটাও বুঝতে পেরেছিলাম।সে তো মহিলা শার্লক হোমস। পরেরদিন সকালবেলায় পত্রিকার অন্যতম প্রধান খবর, "জনপ্রিয় সাহিত্যিক রৌদ্র হাসানের "আমি সুমন নই" বইয়ের মোড়ক উম্মোচন।বরাবরের মতোই বইটি তিনি উৎস্বর্গ করেছেন "কাজলনয়না" নামের সেই আগুন্তক ললনাকে।এবারের বইয়ের মোড়ক উম্মোচন কালে কাজলনয়না সম্পর্কে বলতে যেয়ে বলেন......"

লিখেছেনঃ  Parvej Arjai Khan, 3rd Batch

No comments

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.