রক্তিম একুশ - নুহাত আল মাসুম




জন্মান্তরে পেয়েছি তোমায় যেন উত্তরাধীকার সূত্রে
মায়ের মুখের মিষ্টি হাসিটা নয়তো কোনো গোত্রের
আমার আত্ম-স্বাধীনতার বাক-শক্তির ধ্বনি তো 
আমার ভাইয়ের রক্তের।
.

ঘুমিয়ে আছে পাগলী মায়ের পাগল ছেলেটা, 
সন্ধা ঘনিয়ে হয়ে গেল কালো অন্ধকার, খোকা ফিরে না বাসায়, 
শুনা যায় না বাহির থেকে আর মা বলে ডাক,
ছেলে ফিরতে এখনও এত রাত? 
মা তো রেগে আছে, 
বেড়ে দিবে না আজ ভাত।
.

রাত বাড়ার সাথে সাথে নিমিশেই শেষ হয়ে যায় 
খোকার উপর সব রাগ, খোকা ফিরবে নাকি ফিরবে না!
তবে কি কোনো দিন ডাকবে না আর মা বলে খোকা?
.

আকাশে বিদ্যুৎ চমক, আর বাতাসে ছড়িয়ে আছে লাশের গন্ধ,
ভোরের শিশির বিন্দুতে পড়েছে রক্তিমসূর্যের সোনালী হাসি, 
খোকার মুখের শেষ বুলি মা আসি।
.

খোকা আসবে না কোনো দিন ফিরে,
তবে এসেছে খোকার মুখের বুলি ঘরে ঘরে,
এসেছে আমার আত্ম-স্বাধীনতার বাংলা ধ্বন্নি,
আমার প্রাণের বাংলা, আমি তোমাই ভালবাসি
.

আমার ভাইয়ের বুকের তাজা রক্তের বিনিময় পেয়েছি আমি বাংলা,
বাংলা আমার মায়ের গর্ব,বাংলা আমার অহংকার ,
তোমার মাঝে শান্তি আমার, তুমি সর্বসেরা
বিশ্বের কাছে মাথা তুলে গাইব তোমার গান 
" বাংলাই আমার জীবন-মরণ বাংলাই আমার প্রাণ "
.

তোমার বুকের রক্তে কৃষ্ণচূড়া হয়েছে লাল,
সেঁজেছে শিমুল, আর গাছে গাছে পাখির কোলাহল,
আর ঘরে ঘরে শত খোকার মা বলে ডাক, 
চির দিনই থাকবে বেঁচে ছোট্ট ছেলেটা
মা বলে ডাকবে যত দিন ।
.

আমার ভাইয়ের রক্ত স্রোতে মাখা একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি তোমাই ভুলিতে পারি!

***

লিখেছেনঃ নুহাত আল মাসুম, ৮ম ব্যাচ

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.