২১ আসে, ২১ যায়-ফারজানা আলম পিয়া


২১ আসে, ২১ যায়। 
সবাই সারিবদ্ধ হয়ে 
শহীদ মিনারে ফুল দেয়।
আর গলা উঁচিয়ে গায়,
"আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো,
একুশে ফেব্রুয়ারি। 
আমি কি ভুলিতে পারি?"

বুটিক হাউজগুলো নতুন পোশাক আসে, 
২১শের শাড়ি, ২১শের পাঞ্জাবি। 
রেস্টুরেন্টগুলো নতুন অফার দেয়। 
২২১ টাকায়, একুশে প্ল্যাটার। 
ফুল বিক্রেতার ব্যবসাও জমজমাট হয়৷ 
২১ আসে, ২১ যায়।

শুধু ফিরে আসে না,
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাষ্টার্সের মেধাবী ছাত্র, 
আবুল বরকত। 

ফিরে আসে না,
জগন্নাথ কলেজের ছাত্র, 
বাবার প্রেসে সাহায্য করা ছেলে, 
রফিক উদ্দিন। 

ফিরে আসে না,
সচিবালয়ের পিয়নের কাজ করা, 
অভাবী বাবার জোষ্ঠ্য সন্তান, 
২৭ বছরের টগবগে তরুণ, 
আবদুস সালাম। 

ফিরে আসে না, 
শাশুড়ীকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে আসা, 
যুবতী আমেনার স্বামী, 
৪ মাস বয়সী পুত্রের জনক,
আবদুল জব্বার। 

ফিরে আসে না -- 
পোষ্ট & টেলিগ্রাফ অফিসের সুপারেনটেন্ড,
কিশোরী আকিলা খাতুনের স্বামী, 
৩ বছর বয়সী শাহনাজের বাবা, 
শফিউর রহমান। 

ফিরে আসে না,
রাজমিস্ত্রীর সন্তান, 
৯ বছরের শিশু ওহিউল্লাহ এর লাশ।

২১ আসে, ২১ যায়। 
ওরা ফিরে আসে না।
***

লিখেছেনঃ ফারজানা আলম পিয়া, ৭ম ব্যাচ।

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.