সার্সটেক, ক্লাব এক্টিভিটি এবং আমরা-প্রান্ত বিশ্বাস, ৫ম ব্যাচ

 বিভিন্ন অর্গানাইজেশন বা ক্লাব এক্টিভিটিতে কেন নিজেকে জড়াবেন?

এই প্রশ্নের উত্তর সবারই কম বেশী জানা.. যেমন, আপনি যদি কালচারাল মাইন্ডের হন তাহলে কোনো কালচারাল সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকলে সেগুলো চর্চার সুযোগ পাবেন, নিজেকে সবার সামনে কিভাবে উপস্থাপন করতে হয় সেটা শিখতে পারবেন, নিজের জড়তা গুলো কি কি সেটা জানতে পারবেন এবং ডেভেলপের সুযোগ পাবেন, সর্বোপরি সিভিতে উল্লেখ করার মত একটা বিষয় পাবেন। এসব ব্যাপার সবাই জানে এ নিয়ে নতুন কিছুই বলার নেই। তবে বলার মত ব্যাপারটা হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট সার্সটেকে আপনি কিভাবে বিভিন্ন ক্লাব এক্টিভিটিতে জড়াবেন এবং নিজেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবেন। প্রথমত আমাদের ক্যাম্পাসে অর্গানাইজেশন বা ক্লাব বা সংগঠন আছে অনেক গুলা। ক্যারিয়ার সেট আপের জন্য রয়েছে ক্যারিয়ার ক্লাব; গান, কবিতা, নৃত্য, অভিনয়, উপস্থাপনা এর চর্চার জন্য রয়েছে উচ্ছ্বাস; মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য রয়েছে স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন প্রয়াস; সাথে আছে ব্লাড ডোনেটিং ক্লাব; নিজের সাহিত্যিক মানসিকতা, কাব্যিক প্রতিভা প্রকাশ করার জন্য সুঁইসুতা তো রয়েছেই। এছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্র আছে যেখানে সার্সটেক সফলতার সাথে অংশগ্রহন করে দৃষ্টান্তের সৃষ্টি করেছে। যেমন MUN,. Diplomatic Assembly, English olympiad, Debating competition এগুলা বাদেও সার্সেটেকে রয়েছে আন্তজার্তিক অনলাইন জার্নাল Textile Focus, Textile Today এর রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট ও ক্যাম্পাস করেসপন্ডেন্ট। কারো কারো আর্টিকেল ছাপা হয়েছে daily star এর মত পত্রিকাতে। এসবই আমাদের নিজেদের সফলতা। এসব সফলতায় নিজের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে প্রচন্ড ইচ্ছা শক্তি আর আগ্রহ। এই দুটা জিনিস থাকলে আপনার দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে এসব কোকারিকুলার এক্টিভিটিতে যে বা যারা জড়িত আছে তাদেরকে খুজে বের করা। তৃতীয় কাজ হচ্ছে এসব ব্যক্তিদের কাজের ক্ষেত্র গুলা ও তাদের অভিজ্ঞতাগুলা শোনা, বোঝা ও অনুভব করা। চতুর্থ কাজ হচ্ছে আপনি যে তাদের সাথে কাজ করতে আগ্রহী সেটা প্রকাশ করা এবং তাদের কাজে স্বেচ্ছায় সহযোগীতা করা।
একটা বন্ডিং তৈরি হয়ে গেলে আপনি খুব সহজেই গাইডলাইন পেয়ে যাবেন।  তবে একটা জিনিস অবশ্যই মনে রাখবেন আমাদের এখানে ছাত্রছাত্রী সংখ্যা তুলনামুলক ভাবে অনকে কম এবং সংগঠনপ্রিয় ব্যক্তিদের সংখ্যাও কম। এত এত সংগঠন সবগুলাতে নিজেকে জড়িয়ে কোনোটাতেই ডেডিকেশন না রাখতে পারলে সেল্ফ ডেভেলপমেন্ট কোনোভাবেই সম্ভব না। বিভিন্ন সংগঠনের কমিটিতে পজিশন দখল করে ফেসবুক, লিংকডইনে পোস্ট দিয়ে পাবলিসিটি বাড়িয়েও আপনার খুব একটা উপকার হবেনা, যদি পাঁচটা মানুষের সামনে হাটু, গলা না কাঁপিয়ে কথা বলার সক্ষমতা অর্জন না করেন, এমনটা হলে একাডেমিক প্রেজেন্টেশনেও স্যারদের দৃষ্টি কাড়তে পারবেন না। প্রতিটা সংগঠক হচ্ছে সংগঠনের পিলার। বাসা বাড়ি তৈরিতে মাটির তলের ফাউন্ডেশনের মত, দেখা যায়না অথচ ওটা না থাকলে সংগঠন ধপাস করে পড়ে যাবে। আপনাকে একজন পুর্ণাঙ্গ সংগঠক তখনই বলা সম্ভব হবে যখন শুধু আপনিই জানবেন আপনাকে কি এবং কিভাবে করতে হবে। মানুষ শুধু দেখবে আপনি বা আপনার সংগঠন কি করছে... ধরুন আপনি এই ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ মিনারে একটা ছোট্ট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবেন। সবাই দেখবে আপনি বা আপনাদের সংগঠন কি অনুষ্ঠান করছে আর কতটা আকর্ষনীয় হচ্ছে। কিন্তু, আপনি জানবেন য়অনুষ্ঠানের গান কবিতা গুলা কি কি হবে সেগুলা কিভাবে স্ক্রিপ্টে আনা হবে, সিকুয়েন্স গুলা কেমন হবে, থিম টা কি হবে, গান কে গাইবে, কবিতা গুলা কারা আবৃত্তি করবে, ইন্সট্রুমেন্ট প্লে করবে কারা, এসব গুছায়ে এবার কম্প্যাক্ট রিহার্সাল লাগবে সময়ের সাথে। পারফরমেন্সের কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্টেও কাজ করতে হবে। তার উপর স্টেজ ডেকোরেশনের ব্যাপারটা ভুলে গেলে চলবেনা। এসবের পরেও ক্যাম্পাস অথোরিটিকে জানানো তাদের অনুমতি ও নিতে হবে। অর্থাৎ আপনিই হবেন সেই ট্রু সোলজার যার হাতে সমগ্র অর্গানাইজেশনটি বীরদর্পে দাড়িয়ে থাকবে। আপনি পদাধিকার বলে গলা চড়াও করবেন অথচ জানবেন না শহীদ মিনারে ফুলের তোড়া দেবার টাকাটা কিভাবে আসবে, সংগঠনের কাগজপত্রগুলা কোথায় ক্যামনে থাকতেছে। নিজেকে সুঁইসুতার হর্তাকর্তা ভেবে ফেবু নোটিফিকেশনে ভাসায় দিচ্ছেন অথচ সুঁইসুতার প্রত্যেকটা সংখ্যা বের করতে কাগজ কিনতে টাকা কিভাবে ম্যানেজ হয়, ডিজাইন গুলা ফুটায় তুলতে কতটা পরিশ্রম করা লাগে, নতুন লঞ্চ হওয়া ওয়েবসাইট টা কে বানালো, কিভাবে বানালো, কার এতগুলা টাকার সহযোগীতায় হোস্টিং কেনা সম্ভব হল সেসব মানুষের খোঁজ জানেন না। তাহলে সোজা কথায় আপনি নিজেকে সংগঠক হিসেবে দাবী করতে পারবেন না। এইসব কিছু ম্যানেজমেন্ট এর ক্ষমতা, প্রেসার নেওয়ার এবিলিটি থাকলেই আপনি প্রকৃত সংগঠক এবং বিভিন্ন পদ অর্জনের যোগ্য।
আর এই কাজগুলা করার মাধ্যমেই আপনি ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেছেন। এই স্ট্রেস নেয়ার এবিলিটিই জব সেক্টরে আপনাকে অন্য মাত্রায় পৌছায় দিবে। তবে ক্লাব এক্টিভিটির মাধ্যমে নিজের স্কিল ডেভেলপের সাথে নিজ উদ্যোগে কিছু কাজ করতে হবে সেগুলা হচ্ছে কম্পিউটার কোর্স করে বা অন্য যে কোনোভাবে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে, English Spoken, Writing অ্যাবিলিটি বাড়াতে হবে। এগুলা সার্টিফিকেটের সংখ্যা বাড়াবে সাথে সিভিও ভারী করবে। সর্বোপরি এখানে ভর্তি হয়েছ যে উদ্দেশ্যে অর্থাৎ ইঞ্জিনিয়ার হবার যে লক্ষ সেটা ঠিক রেখে পড়াশুনার পাশাপাশি ক্লাব এক্টিভিটিতে জড়িত থাকলে ক্যারিয়ার সেট আপে যথেষ্ট সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তবে সব ক্লাবে একটু একটু করে না জড়িয়ে যে কোন একটা বা দুইটাতে নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজগুলা সঠিক ভাবে করতে পারলেই ডেভেলপমেন্ট সম্ভব।

এভাবেই অটুট লক্ষ, সীমাহীন ইচ্ছা শক্তি প্রত্যেকটি সার্সটেসিয়ানকে এগিয়ে নিয়ে যাক সমহিমায়, উজ্বল হোক সার্সটেকের মুখ..

লিখেছেনঃ প্রান্ত বিশ্বাস, ৫ম ব্যাচ

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.