একজন ভাষা শহীদ -ফারজানা আলম পিয়া, ৭ম ব্যাচ


শফিউর রহমান এর গল্প:


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোন্নগরে জন্ম শফিউর রহমানের। তারিখটা ১৯১৮ সালের ২৪শে জানুয়ারী।

কলকাতার গভর্ণমেন্ট কমার্শিয়াল কলেজ থেকে আই.কম. পাস করে, শফিউর রহমান চব্বিশ পরগনা সিভিল সাপ্লাই অফিসে কেরানীর চাকরি শুরু করেন। ১৯৪৫ সালের ২৮ মে তিনি বিয়ে করেন, কলকাতার তমিজউদ্দিনের কন্যা আকিলা খাতুনকে। আকিলা খাতুনের বয়স তখন মাত্র ১২ বছর।

আর দশটা দিনের মতোই, ১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারী, সকাল দশটায় সাইকেলে করে, শফিউর রহমান রওনা হন অফিসের উদ্দেশ্য। পরনে ছিল শার্ট, পাজামা আর কোট। ঐ দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে, নবাবপুর রোডে "বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে" বিক্ষোভরত জনতার উপর পুলিশ বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। তখন শফিউর রহমান গুলিবিদ্ধ হন।

তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও, তাঁর অস্ত্রোপচার সফল হয়নি। ঐ দিন সন্ধ্যা ৭টায় হাসপাতালের বিছানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ভাষা সৈনিক। তারপর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় তাঁকে।

শফিউর রহমানের একমাত্র মেয়ে শাহনাজের বয়স তখন ছিল মাত্র তিন বছর। ছেলে শফিকুর রহমান তখনও মায়ের পেটে। ১৯৫২ সালের মে মাসে তার জন্ম গ্রহণ করে। ২০০০ সালে বাংলাদেশ সরকার, মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন এই ভাষা সৈনিককে।

লিখেছেনঃ ফারজানা আলম পিয়া, ৭ম ব্যাচ

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.