আমাদের ভালোবাসা দিবসের ৭ দিন-মশিউর রহমান হৃদয়


হৈ হৈ রৈ রৈ ভালোবাসা দিবসের আমেজ না লেগে উপায় কই?

৭ ফেব্রুয়ারি 

শুভ গোলাপ দিবস 

আগের দিন দুজনের দীর্ঘক্ষণের আলাপন । শুরু হতে যাচ্ছে ভালোবাসা দিবসের ৭ দিনের আমেজ ।

প্ল্যান হচ্ছে নিলাঞ্জনাকে নিয়ে বের হবো । সে আমার পছন্দের নীল শাড়ি পড়ে আসবে ।

যাকে ভালোবাসি তার জন্য স্থানীয় একটা মার্কেট থেকে একগুচ্ছ কিনলাম । পার্কে দাঁড়িয়ে আছি এমনি এক সময় নীলাঞ্জনার আগমন । নীল শাড়িতে অপরুপা নীলাঞ্জনাকে অপ্সরীর মতো লাগছে । এমন মেয়ে দেখলে এমনি প্রেমে পড়তে হয় । কোন কারন ছাড়া ।

কারো হাসি দেখে প্রেমে পড়া যায়, কারো চোখ দেখে, কারো গুণ দেখে । যদিওবা গুণ দেখে আজকাল প্রেমে পড়া যায়না । কেননা গুণ দেখলে রুপের রস পান করা যায়না ।

আর আজকাল রুপ না থাকলে কি চলে? সমাজে চলা লাগে, কোরবানীর গরু কিনলাম লোকে যদি খাসা মাংসের উপলব্ধিই করতে না পারে তাইলে কি আর চলে?

প্রেমে পড়তে কারণ লাগে যতোনা তার থেকে বেশি কারন লাগে তা ভাঙতে ।

প্ল্যান মোতাবেক নীলাঞ্জনাকে গোলাপের গুচ্ছ দিলাম । যদিও তার পছন্দ কৃষ্ণচূড়া । কিন্তু ট্রেন্ড বলে কথা! আজকের দিনের নামই তো রোজ ডে ।

অতঃপর আমরা ঘুরতে বের হলাম । নদীর তীরে বসে গল্প করছি । ঠিক গল্প না, এইটা প্রেম করা বলা যায় । রোজার মাসে রোজা রাখে বলে মানুষ । কেউ বলেনা না খেয়ে আছি ।

ভালোবাসা দিবসে প্রেম করছি । এখানে আজ অনেক প্রেমিক-যুগল । প্রেম করার নানান নিয়ম ।

বসে প্রেম করছি এমতাবস্থায় তার শরীরে শরীর স্পর্শ করে কথা বলতে হবে । কখনো তার শরীরে হাত দিয়ে আদর করতে হবে । আরো কত কি!

সারাদিন ঘুরে বাসায় ফিরলাম সন্ধ্যায় । দুপুরে নীলাঞ্জনার সাথে খেলাম । সন্ধ্যায় ফিরে দেখি মা এখনো না খেয়ে আছে । মা যে কি! এখন বড় হয়েছি না? এখনো এইসব আধিক্ষেতা করে! ভালোলাগেনা । খবর নেইনি মা খেয়েছে কি-না । আমার সাথে খাবে আশায় ছিলো । খাইনি তো কি হইছে খেয়ে নিবে ।

রুমে গিয়ে সারাক্ষণ ভাবছি সারাদিনের মুহূর্তগুলো!

কত কাছে মোদের পৌ+ইত্র ভালোবাসা ।

নীলাঞ্জনাকে ফোন দিলাম ।

- খেয়েছো নীলু?

- নাহ, খাইনি বাবু ! দুপুরে তো খাওয়া দাওয়া হইছেই !

- উফ, দুপুরে তো বেশি খেতেই পারোনি । খেয়ে নাও সোনা ।

- আচ্ছা বাবু খেয়ে নিচ্ছি ! এতো কেয়ার কর ? ভালোবাসো আমায়?

- তোমায় ভালোবাসি কারন তোমায় ভালো না বেসে থাকতে পারিনা ! তোমায় নিয়ে খুব ভাবি ।

- লাব্বিউ

কথোপকথন শেষ করেছি । নীলু খাচ্ছে । আমি চেষ্টা করি তার কেয়ার নিতে ।

৮ ফেব্রুয়ারি 

শুভ প্রস্তাব দিসব 

ভালোবাসা মৌসুম শুরু হবার পূর্বেই ঠিক করেছি ভালোবাসা দিবসের ৭ দিনই আমরা দেখা করবো । তারই ধারাবাহিকতায় আজও দেখা করেছি । আজ প্রপোজ করবো । অনেক প্ল্যান করেছি । একটা বক্সের ভেতর মূল্যবান আংটি থাকবে । তার উপর আরও কয়েকটা বক্স । খুলতে খুলতে শেষে পাবে আংটি টি ।

আংটিটি পেয়ে যেতেই চারদিক থেকে বন্ধুরা ঘিরে দাঁড়াবে আর কৃষ্ণচূড়া ফুল ছুঁড়বে ।

আমি আংটিটি পড়িয়ে প্রপোজ করবো,

আমি তোমার সন্তানের পিতা হতে চাই । LOL

যেভাবে প্ল্যান করেছিলাম তেমনি হলো । হয়তো সে কল্পনাও করতে পারেনি এমন একটা দিনে এমন একটা মুহূর্ত সৃষ্টি হবে ।

আজকেও সারাদিন ঘুরাঘুরি হলো । আবারো প্রেমের টানে কাছে আসা ।

৯ ফেব্রুয়ারি 

শুভ চকোলেট দিবস 

তার প্রিয় স্ট্রবেরী ফ্লেভার । তাই স্ট্রবেরী ফ্লেভারের চকোলেটটাই দিলাম ।

ঘুরলাম ফিরলাম বাসায় এসে টান টান উত্তেজনায় আরও টান লাগছে ।

১০ ফেব্রুয়ারি 

শুভ টেডি দিবস । 

দিলাম মস্ত বড় এক টেডি বিয়ার । সে টেডি বিয়ার নিয়া খেলতে খুব পছন্দ করে । আমারও যে পছন্দের খেলা আছে !

১১ ফেব্রুয়ারি 

শুভ কথা দে দিবস 


এতো ভালোবাসা আমাদের ! দুজন দুজনক কতোই না ভালোবাসি !

আজ আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি কেউ কাউকে ছেড়ে যাবোনা । দুজন দুজনকে ভালোবাসবো । ভালোবাসতে বাসতে ফেনা বের করা দিবো তবু ভালোবাসা কমানো যাবেনা । বিশ্বাসের খাম্বাটা আরও উঁচু করে ধরবো ! খাম্বাখানা উঁচু করাই হলো কিন্তু ভীতটা ? কে জানে ! ধুর এইসব নিয়া কে ভাবে! পরের দিন আরও বড় ইভেন্ট । বড় মাপের প্ল্যান । এমন সময়ে মায়ের আগমন ঘরে । না বলে কয়ে ঘরে ঢুকে পরে । কি যে একটা ইতস্ততা ব্যাপার! মা কি বুঝেনা ছেলে বড় হইছে !

ধুর! মা বুড়ি হইতেছে নাকি কমনসেন্সলেস হচ্ছে!

- বাবারে, প্রেশারটা খুব বেড়ে গেছে । সাথে মাথাব্যথা । ওষুধও নাই ঘরে । একটু এনে দিবি বাবা?

- রোগ বাধাইছো তো ভুগতেই হবে । এখন টায়ার্ড লাগতেছে তুমি একটু সয়ে নাও, সেড়ে যাবে ।

মা আমার সাজেশন নিয়ে রুম থেকে চলে গেলো । আমি ভাবতেছি পরের দিনের কথা । এক্সাইটমেন্ট কাজ করতেছে খুব । সারারাত ঘুম হয়নি কতসব ভাবনার জন্য !

১২ ফেব্রুয়ারি 

শুভ কোলাকুলি দিবস 


সকাল সকাল বের হলাম । নির্জন এক রাস্তায় দুজন দুজনের তাকিয়ে থেকে অনেকটা মুভি স্টাইলে হাগ শুরু করলাম ।

আশাপাশে মানুষ দেখছে বুঝতে পারলাম । তাতে কি! আমাদের যা খুশি তা করবো । অন্যের কি?

অন্যের বাপের খাই দাই?

দুজন দুজনকে অনেক শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম । আহ! সব সুখ দুজনের মাঝেই আছড়ে পড়ছে ।

আমাদের ভালোবাসা ! আমরা দুজন দুজনকে ভালোবাসি । কতোটা?

অনেক অনেক !

তাই শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছি । মাঝে পাহাড় পর্বত থাকলে গুঁড়িয়ে যেতো !

ভালোবাসার শক্তি বলে কথা!

অতঃপর ঘুরাঘুরি করা হলো, রেস্টুরেন্টে বসে দামি দামি খাবার খাওয়া হলো । আরও একটি সুন্দরতম দিন অতিবাহিত করা!

আজ বাসায় আসছি সন্ধ্যার পরে, রাতে । রাতের খাবারও খেয়েছি নীলুর সাথে রেস্টুরেন্টে । তারপর অন্ধকার রাস্তায় দুজন হেঁটেছি, আজকের দিন উদযাপন করেছি ।


বাসায় ঢোকার সময় ডাইনিং রুম অতিক্রম করে রুমে ঢোকা লাগে । দেখি আমার খাবার ঢাকনা দিয়ে ঢাকা । হয়তো ভর্তা কিংবা ভাজি । এইসব খাবার ভালো লাগে?

নীলুর সাথে আজ কত্ত খাবার খাইছি!


না খেয়ে রুমে চলে গেলাম । রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবছি আগামীকাল বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ।

কুত্তার প্রেম ভাদ্র মাসে আর আমাদের প্রেম তো ফেব্রুয়ারি মাসে ।

কাল তো ঈদের দিন । আগের দিন মুখমন্ডল এগিয়েছে । আজ আরেকটু এগিয়েছে । নাহ এইসব কি ভাবছি?

আমাদের পবিত্র ভালোবাসা নিয়ে?

আগামীকাল সারাদিনভর প্ল্যান । সকাল সকাল যাওয়া লাগবে ।

কাল বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে উপলক্ষ্যে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে ঘুমাতে যাই ।

স্ট্যাটাস দিলাম-------------

১৩ ফেব্রুয়ারি 

শুভ চুম্মা দিবস


টান টান উত্তেজনা । ঈদ যত এগিয়ে আসে আনন্দও বাড়তে থাকে ।

প্রেমিক-যুগলদের ঈদের সিজন চলে এই কয়দিন ।

আজ বিশেষ একটা দিন । প্রাচীনকাল থেকে ভালোবাসার গভীরতা, অন্তরঙ্গতা চুম্বনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় ।

ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে কিস ডের একটি জনপ্রিয় আয়োজন হলো ‘চুম্বন প্রতিযোগিতা’, যেখানে প্রতিযোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে চুম্বনে আবদ্ধ থাকতে হয়। সেই জুটিই বিজয়ী হবে, যারা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চুম্বনে আবদ্ধ ছিল। গত বছর থাইল্যান্ডের এক জুটি টানা ৫৯ ঘণ্টা পেরিয়ে চুম্বনে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়।

নীলুকে বড্ড ভালোবাসি । আমাদের ভালোবাসা পৌ+ইত্র ভালোবাসা ।

নীলুকে বলেছিলাম প্রতিযোগিতাটা একবার হোক কেবল ১ জোড়া কাপলে ? নীলুও সানন্দে রাজী হয়েছিলো কেনোনা এ যে প্রেম, ভালোবাসা নয় । আজকাল এইগুলো স্বাভাবিকই তো । কিন্তু এখনো সেটা আপামর জনতা তা সহজে মেনে নেয়নি আমাদের দেশে । অসুবিধা কি তাতে?

রাস্তাঘাট, পার্ক কিংবা হোটেল আছে তো !

আজকাল একটু বেহায়াপনা করলে সেটাকে বেহায়াপনা প্রেম তো আর বলেনা, সেটা তো Cerazyness of Love

দুজন বের হলাম । সোজা পার্কে ।

পার্কে আজ অনেক প্রেমিক পুরুষ । প্রেমের বাগানে প্রেমের ফুল ফুটেছে ।

অনেক্ষণ ধরে চলেছে আমাদের এই দিন উদযাপন ।

প্রিয়তমার প্রথম চুম্বন সহজে ভোলার নয়। মুভিতে দেখেছিলাম প্রেমিকার চুম্বন নাকি ঝালকেও হার মানায়! কি মিষ্ট! আজ তা উপলব্ধি করলাম । অমৃতকেও যে হার মানায় ।

আজকের দিনটার কথা, আজকের দিনটার অনুভূতির কথা লিখে প্রকাশ করা যাবে এমন কোন শব্দ-ভান্ডার নাই আমার জানা ।

অন্য এক ভুবনে কেটেছে আজকের সারাটা দিন । 

Drawn by Imran Hossain
Drawn by Imran Hossain


১৪ ফেব্রুয়ারি 

শুভ ভালোবাসা দিবস 

অবশেষে ঈদের দিন । আজ আনন্দের দিন । ভালোবাসার দিন । ভালোবাসার কমতি রাখিনি । এতোটাই ছিলো ভালোবাসা লিখলেও কম মনে হবে ।

- নীলু আমায় বিশ্বাস কর?

- হ্যা করিতো ।

- আমায় ভালোবাসো ?

- বাসি তো ! অনেক ভালোবাসি ।

- আমিও ভালোবাসি ।

- আমিতো জানি বাবু ।

- চলোনা কাল ভালোবাসা দিবস উদযাপন করতে করতে হারিয়ে যাই?

- কি বলছো বুঝলামনা! ভালোবাসা উদযাপন করলে করতে করতে হারাইয়া যায় কি করে?

- আমার এক বন্ধুর একটা রুম ম্যানেজ করছি । আমরা একটু নিরবে দুজন দুজনকে সময় দিবো ।

নীলুকে কয়েকবার বলাতে রাজী হয়েছে । হবেনা কেন? আমাকে সে ভালোবাসে ! আমায় সে বিশ্বাস করে । আমিও করি । সে রাজী হলো । অতঃপর টান টান উত্তেজনার সীমানা পেরিয়ে বাউন্ডারী, ওভার বাউন্ডারী হলো । ভালোবাসার এই উত্তেজনা মানেনা কোন বাঁধ । কোন বাঁধ নেই যা আমাদের আটকায় ।

আমাদের পবিত্র প্রেমকে বাঁধা যাবেনা । ভালোবাসলাম দুজন দুজনকে মন প্রান উজাড় করে ।

সারাদিন অনেক ভালো একটা দিন কাটলো । স্মরণীয় একটা দিন গেছে । আমি পেলাম, আমি তাহারে পাইলাম ।

এতো কাছে!

অমর হয়ে থাকুক এ প্রাপ্তি!

ধুলোবালি পড়া ডায়েরীতে লিখা পড়ছি আজ ।

এবারও ভালোবাসা দিসব এসে চলে যাচ্ছে । নীলু নেই পাশে ।

১৪ ফেব্রুয়ারীর পর তার প্রতি আমার আগ্রহ কমে গেছিল । তাকে এতোটা কাছে পেয়েছি তাতে তো সব পেয়েই গিয়েছিলাম । কেন আর মায়া থাকবে ?

এইটা প্রেম ছিলো নাকি ভালোবাসা?

এইটা হয়তো প্রেম ছিলোনা । ভালোবাসা থাকলে আমি তার রুপের প্রেমে পড়তামনা, ভালোবাসা থাকলে ফেব্রুয়ারীর ট্রেন্ডগুলো পালন করতামনা ।

কুকুরের প্রেম ভাদ্র মাসেই দেখা যায় । ভালোবাসলে তো আর কেবল ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রেম হতোনা ।

ভালোবাসাটা সব সময়ের জন্য । সে সেজেছে, দেখিয়েছে কোন ঢাক না রেখেই । মানুষও দেখেছে । আর আমি পেয়েছি সব । কোন দায়বদ্ধতায় না থেকে সব পেয়ে গেলে তার প্রতি আকাঙ্ক্ষা থাকেনা ।

কুকুরের ভাদ্র মাসের প্রেম পথে ঘাটে । কিন্তু কুকুরের বাচ্চার প্রতি মায়ের ভালোবাসা সবসময়ের জন্য ।

ভালোবাসা আর প্রেমের মধ্যে ফারাকটা বুঝে নেওয়া হয়ে উঠেনি আমার । প্রেম মানেই ভালোবাসা, ভালোবাসা মানেই প্রেম না ।

প্রেমিকার শরীর পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রেম, প্রেমিকার চোখের মায়ায় হারিয়ে যাওয়া, তার কেয়ার নেওয়াটা ভালোবাসা ।

সম্পর্কের ইতি টানার পরে তার সাথে সেভাবে আর যোগাযোগ করা হয়নি আমার।

ইতি টানতে হয়েছিলো কেননা তার পরিবার থেকে তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছিলো ।

আমি বেকার, আমি সেক্ষেত্রে অনেক কিছুই করতে পারিনা । পরিবার পরিজন ভাবা লাগে, পারিবারিক অবস্থাও চিন্তা করা লাগে ।

পাশের এলাকায় থাকার দরুন নীলুর বিষয়ে খোঁজ কানে এসেছে ।

প্রেম করার সময় বন্ধু বান্ধবকেও ইগনোর করেছি । এখন সার্কেল নাই আমার ।

আমি আমার মতোই আছি ।

খোঁজ পেয়েছি নীলু এবর্শন করিয়েছিল । ভালোবাসার বীজ ছেটে ফেলেছে ।

ক্ষণিক অবাধ্য প্রেমের ফসল আমাদের । হয়তো ব্লেড দিয়ে কেটে কেটে প্রেমের বীজটাকে ফেলে দেওয়া হয়েছিলো । কিংবা কোন পলিথিনে ভরে কোন ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে কুকুর শেয়ালের খাবার হিসেবে।

আর যদিও বড় হয়ে থাকে তবে সে জারজ সন্তান হিসেবে সমাজে বেড়ে উঠবে ।

কুকুরের ভাদ্র মাসের প্রেমের ফসলেরও তো এমন পরিস্থিতি হয়না!

আমাদের প্রেম কি পশুত্বকেও হার মানায়নি?


এতো কাছে আসার পেছনে কে ছিলো?

আমিই ছিলাম? সে রাজী না হলে ?

অনাগত ভালোবাসার ফসলের অভিশাপ কিংবা পাপের ভার কি বইতে পারা যাবে?

আমার বাবা মায়ের প্রেমের ফসলে পবিত্রতা আর বৈধতা ছিলো বলেই আমি জারজ সন্তান হইনি কিংবা ব্লেড দিয়ে কেটে শরীরটাকে কাটা হয়নি আমার ।

আমার বাবা আজ বৃদ্ধ । মা-ও আজ বৃদ্ধ । তবুও একজন আরেকজন ছাড়া চলতে পারেনা ।

দুজন একসাথে থাকে । সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকে আজ অবধি আমাকে ভালোবেসে গেছেন । যা চির অক্ষয় । প্রেম তো ক্ষণিকের । হয়তো আমাদের মাঝে ছিলো প্রেম, কামনা আর আবেগ ।

ভালোবাসা বলতে যা বুঝায় তা গৌণই ছিলো ।

তানাহলে প্রেমটা রুমে না হয়ে বাস্তবতায় হতো ।

ভালোবাসাটা মূখ্য হতো । প্রেমটা গৌণ হতো ।

এবর্শন করানোর পরে নীলু পর্দা করা শুরু করেছিলো । বাহবা পেয়েছিল সমাজে পর্দানশীন মেয়ে হিসেবে । সমাজ আজ বুঝতে চায়না পর্দা বাহ্যিক রুপটায় প্রদর্শন করে, অভ্যন্তরে থেকে যায় হাজারো ঘটনা ।

আজকাল পর্দা যেন শো অফের বিষয়ে পরিণত হচ্ছে ।

শয়তানও তো নানান রুপ ধারন করে । কিন্তু তার কর্ম?

সেই সম্পর্কের ইতি তারপর আমিও সিঙ্গেল ।

ভালোবাসা দিবসে বলি, ধুরু কিসের ভালোবাসা দিবস?

সারাদিন ঘুম । সিঙ্গেল আছি কোন প্যারা নাই ।

কিংবা বলে ফেলবো ধুরু মেয়েরা হচ্ছে নষ্টা, ভালোবাসা মানেই শরীরে হাত কিংবা রুমডেইট কিংবা নিষিদ্ধ আলাপন ব্যতীত কিচ্ছুই না ।

নাহ, ভালোবাসা না, প্রেম । এইগুলো ভালোবাসা না । ভালোবাসা কম, প্রেম অধিক, বাস্তব চিন্তা ভাবনা বিবর্জিত, সঠিক কর্থব্যজ্ঞানহীন, নীতিজ্ঞানহীন প্রেমলীলা ।

বাস্তবতাটা কি আসলে ? দিনশেষে একবারও কি বোধ হয়না নষ্ট প্রেমের দিনগুলোর কথা ?

ভবিষ্যৎ না ভেবে চিন্তেই আবেগের বাগানে প্রেমের ফুল ফুটানোর কথা?

প্রেমে মগ্ন থেকে ভালোবাসা কি বুঝিনি কেউ ।

মা-বাবা কিংবা পরিবারের জন্য নিজেদের দায়িত্ব কর্তব্যে ঢিল কিংবা উদাসীনতা ! অপরাধ বোধ কাজ করে নাকি সুবোধ কাজ করবে নিজের মনে ?

বিয়ের পর নীলু যখন একটি পুরুষের স্পর্শ পাবে তখন নীলুর কি অপরাধবোধ কাজ করবেনা ?

মনে পড়বেনা সর্বস্ব খোয়ানো নিজের সেই কথা ? যখন প্রথম সন্তান জন্ম নিবে আমার সংসারে কিংবা তার সংসারে তখন দুজনার একজনও কি সেই সন্তানের কান্নার শব্দে পাপের আওয়াজ শুনতে পাবোনা? সেই সন্তানের মুখে ফুটে উঠবেনা প্রেম পবিত্র, মহান বলে কাটানো সেই দিনগুলোর কথা?

ভবিষ্যৎ ভাবনাহীন প্রেমের দিনগুলোর কথা ?

প্রেম হারাম শুনে যখন বলেছিলাম ধর্ম টানা ধর্ম টানা, এখন এই সময়ে কি দুজন ধর্মের বিচারে পাপভোগী হবোনা ?

ধর্মকে সাইডে রেখে কিংবা গৌণ করে ট্রেন্ড চালু করে নিজেদের ইচ্ছেটাকে বৈধ বলে মনে স্থাপন করে নিয়েছিলাম সেই দিনটায় কিন্তু আজ ভাবছি । আমার বোন এখন প্রাপ্ত বয়স্ক ।

তাকে আমি কখনো ধর্মীয় অনুশাসনে বাধতে পারবো কি?

যদি সেও বলে উঠে ধর্ম টানা ধর্ম টানা?

কিংবা প্রেম নামক এই ভয়াবহ ভালোবাসার জালে আবদ্ধ হলে ?

আমি তাকে যখনই নিষেধ করতে যাবো তখন হয়তো আমার শাসন মানবে সমাজ কিন্তু আমার অধিকার? আমার অন্তঃআত্মা? সে কি বলবেনা আমায় আমার অতীতের কথা আমায় ?

এই আমি আর নীলু কে?

আমিই হয়তো আপনি।

নীলু হয়তো তারা।

ভালোবাসা দিবসের ৭ দিন,

কুকুরের ভাদ্র মাসের প্রেম নয়,

প্রেম নয়, ভালোবাসায় বাঁধা হোক সকলের জীবন ।

লিখেছেনঃ মশিউর রহমান হৃদয়, ৬ষ্ঠ ব্যাচ

No comments

ক্ষুদ্র চিন্তা

মানুষের মৌলিক চাহিদা ৬টি। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা। বস্ত্র অর্থাৎ টেক্সটাইল মানুষের দ্বিতীয় মৌলিক চাহিদা। এই...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.