থ্যালাসেমিয়া এবং কিছু সচেতনতা

লিখেছেন তৃতীয় ব্যাচের আল নাঈম
 আমি প্রথমেই লিখতে চাই এই টপিক টি নিয়ে কেন লিখলাম । থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। বাবা এবং মা এর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া পরবর্তী প্রজন্মে ছড়ায়। তাই থ্যালাসেমিয়া এর প্রোকোপ থেকে বাচার উপায় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত পুরুষ - নারীদের বিয়ে বন্ধ করা। সাধারণত গ্রাজুয়েশন লেভেল এর পর ই বিয়ে করে বা এর মধ্যেই সংগী বাছাই করে রাখে তাই এদের সচেতন করা গেলেই থ্যালাসেমিয়া থেকে বাচা যাবে। .

থ্যালসেমিয়া প্রধানত দুই ধরণের হয়। যথা :

১. আলফা থ্যালাসেমিয়া (Alpha-thalassemia) : চারটি জিন দিয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া ধারা (Chain) গঠিত হয়। আমরা বাবা-মা প্রত্যেকের কাছ থেকে দুটি করে এই জিন পাই। এই জিনগুলোর মধ্যে এক বা তার অধিক ত্রুটিপূর্ণ হলে Alpha-thalassemia হয়। যত বেশি জিন ত্রুটিপূর্ণ হবে তত বেশি মারাত্মক সমস্যা দেখা দিবে। যেমন :
একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে থ্যালাসেমিয়ার কোন লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যাবে না। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে তার সন্তানের মধ্যে এই রোগ ছড়াবে।
দুইটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে হালকা উপসর্গ দেখা যাবে। এই অবস্থাকে বলে আলফা থ্যালাসেমিয়া মাইনর (Alpha-thalassemia minor) অথবা আলফা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট ( Alpha-thalassemia trait).
তিনটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে এর উপসর্গগুলো মাঝারি থেকে মারাত্মক আকার ধারণ করে। এই অবস্থাকে বলে হিমোগ্লোবিন এইচ ডিজিজ।
চারটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে একে বলে আলফা থ্যালাসেমিয়া মেজর (Alpha thalassemia major) অথবা হাইড্রপস ফিটেইলস (Hydrops fetalis)। এর ফলে প্রসবের (delivery) পূর্বে অথবা জিনের পরপর ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায়।

 ২. বিটা থ্যালাসেমিয়া (Beta-thalassemia) : Beta-thalassemia ধারা গঠিত (Chain) হয় দুইটি জিন দিয়ে। বাবা-মা প্রত্যেকের কাছ থেকে একটি করে মোট দুইটি জিন আমরা পেয়ে থাকি। একটি অথবা উভয় জিনই ত্রুটিপূর্ণ হলে Beta-thalassemia দেখা দেয়। এক্ষেত্রে :

একটি জিন ত্রুটিপূর্ণ হলে হালকা উপসর্গ দেখা যায়। এই অবস্থাকে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর (Beta-thalassemia major) অথবা বিটা থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট (Beta-thalassemia trait).
দুইটি জিনই ত্রুটিপূর্ণ হলে মাঝারি থেকে মারাত্মক উপসর্গ দেখা যায়। এ অবস্থাকে বলে বিটা থ্যালাসেমিয়া মেজর ( Beta-thalassemia major) অথবা কুলিস এ্যানিমিয়া (Cooley’s anemia)। নবজাতক যেসব শিশুর এই সমস্যা থাকে তারা জন্মের সময় বেশ স্বাস্থ্যবান থাকে। তবে জন্মের প্রথম দুই বছরের মধ্যেই এর উপসর্গ দেখা যায়।

সুতরাং দেখা গেল মারাত্ত্বক থ্যালাসেমিয়া হতে অন্তত ৩ টি ত্রুটিপূর্ণ জিন দরকার। যা বাবা মা দুই জন বাহক ছাড়া সম্ভব না। থ্যালাসেমিয়া আটকাতে হলে একমাত্র উপায় ২ বাহক এর বিয়ে বন্ধ করা।

থ্যালাসেমিয়া মাইনর বা বাহক শনাক্তকরণের জন্য যে রক্ত পরীক্ষা সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য, তাকে বলা হয় ”হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস”

এই টেস্ট টি করলে আপনি নিশ্চিত হয়ে যাবেন আপনি থ্যালাসেমিয়া এর বাহক কিনা! আর আপনি যদি থ্যালাসেমিয়া এর বাহক হন তবে আপনি কোন ভাবেও থ্যালাসেমিয়া এর কোন বাহক কে বিয়ে করতে পারবেন না কারন বাবা-মা দুই জন ই থ্যালাসেমিয়া এর বাহক হলে সন্তান এর থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫%, এর মধ্যে বাচ্চা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা ২৫%।
তাই আমাদের সবার উচিত বিয়ের আগেই শিওর হয়ে নেয়া যে আমরা থ্যালাসেমিয়া এর বাহক কিনা। আশা করি আমরা সবাই সচেতন হব এবং উপহার দেব সুস্থ আগামী প্রজন্ম।

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.