সেফটিফিন গাথা ভালবাসা


কিছু কিছু সময়ে একা দাড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে না। কিন্তু মাঝে মাঝে একা দাড়িয়ে থাকতে ভালোই লাগে। অমি তেমনি রিমুর জন্যে দাড়িয়ে আছি অনেকক্ষন ধরে। অসহ্য বা অসস্তি লাগছে না, বরং অদ্ভুত অনুভুতি হচ্ছে অমি'র। প্রতিদিন অমি, রিমুর জন্যে যতবার দাড়িয়ে থাকে ঠিক ততবার ই অমি'র অদ্ভুত অনুভুতি হয়।আজ অমি দাড়িয়ে আছে কাকলি'র মোড়ে পড়ন্ত রোদের ভিতরে,কনে দেখা আলো যাকে বলে আর কি। কিন্তু, কোথা থেকে যেন এক টুকরো কালো মেঘ এসে ৫ মিনিটের ঝুম বৃষ্টি হয়ে গেল। সবাই যখন তাড়াহুড়া করে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে অমি তখনো দাড়িয়ে আছে।দাড়িয়ে দাড়িয়ে হালকা রিমঝিম বৃষ্টিতে ভিজছে। অমি বরাবরই একটু অদ্ভুত।এই অদ্ভুতুড়ে কাজ কারবারই বরং রিমু'র ভালো লাগে,শুধু ভালো লাগে না একটু বেশিই ভালোই লাগে। অমি দাড়িয়ে আছে আর ভাবছে রিমু এখনো আসছে না ক্যানো?রিমু প্রত্যেকবার দেরি করে,কখনো ইচ্ছা করে,কখনো অবশ্য অনিচ্ছায়। রিমু'র ইচ্ছা করে দেরি করা টা বেশ অদ্ভুত। যেমন রিমু এখন ইচ্ছা করে দেরি করছে,অমি যেখানে দাড়িয়ে আছে, রিমু বসে আছে ঠিক তার বিপরীত দিকের একটি কফি শপে। বসে বসে কালো কাঁচের ভিতর দিয়ে অমি'র বৃষ্টিতে ভেজার পাগলামি দেখছে।রিমু তখনই ফোন দিল অমি'কে।

"হইছে অমি সাহেব!আর বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করতে হবে না। কফি শপের ভিতরে আসেন।"

অমি জানত রিমু এরকম ই কিছু একটা করবে। তাই একটু ও অবাক না হয়ে ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির মাঝে কফি শপে ঢুকলো। কফি শপে ঢুকেই অমি'র চোখ আটকে গেল নীল শাড়ি পরা রূপবতীর দিকে। রিমু কে বললে সে এমনিতে শাড়ি পড়বে না। একটা না একটা অজুহাত দাড় করাবেই। কিন্তু দেখা যাবে অমি'কে অবাক করে দিয়ে সে ঐ দিন শাড়ি পড়ে আসবে। কপালে ছোট তিলের মত একটা কালো টিপ থাকবে তবে আজকে বাড়তি যোগ হয়েছে চোখের নিচে হালকা কাজলের আভা। অমি আজ ভুল করে রুমাল আনে নি,তাই টিস্যু দিয়ে মুখের পানি মুছে,মাথার পানি কি দিয়ে মুছবে তা ভাবতে লাগলো।রিমু মুসকি মুসকি হাসছে অমি'র কিংকর্তব্যবিমূঢ়তা দেখে। রিমু, অমি'র প্রায় সব মনের কথাই বুঝতে পারে। তাই জিজ্ঞাসা করলো," কি রুমাল লাগবে?"

অমি হেসে দিয়ে বললো,"জি ম্যাডাম।"

-কিন্তু আমার কাছে যে রুমাল নেই।

-তাহলে?

-এদিকে আসো বলে চেয়ার টা কাছে টেনে শাড়ির আচল দিয়ে মাথা নিজেই মুছিয়ে দিল।

এদিকে কফি শপে চলে এল লাল চা।অমি আর রিমু এখানে মাঝে মাঝেই আসে। এখানের ম্যানেজার লাল চা'য়ের খুব ভক্ত।তাই কফিশপের মাঝে লাল চা'য়ের স্পেশাল ব্যবস্থা আছে। চা খেতে রিমু দেখলো অমি'র শার্টের একটা বোতাম খুলে পড়বে পড়বে প্রায়।অমি'র সেদিকে খেয়াল নেই।অমি একথা সেকথা কত কথা বলে যাচ্ছে।


 হঠাৎ রিমু বললো, "অমি,বাসায় সুইসুতা আছে?"

:দেখতে হবে।কিন্তু ক্যানো বলতো?

:তোমার শার্টের বোতাম যে খুলে পড়ে যাবে যাবে করছে,সেদিকে খেয়াল আছে আপনার?

:ও খেয়াল আমি রাখবো ক্যানো? তার জন্যে রিমু ম্যাডাম আছে তো।

ও আচ্ছা বলে রিমু পার্স থেকে সেফটিপিন বের করে দিয়ে বললো,

"এই সেফটিপিন দিয়ে বোতাম টা আটকে নেও। বাসায় যেয়ে সেলাই করে নিও।"

অমি বোতাম সেফটিপিন দিয়ে আটকাতে আটকাতে বললো,

"ম্যাডাম দেখি আজকাল অনেক সেফটিপিন রাখেন, সবাইকে সেফটিপিন দিয়ে বেড়ান না কি?"

অভিমানী রিমু অভিমানী কন্ঠে অমি'কে বললো, "মেয়েদের পার্সে অনেক টিস্যু থাকে, অনেক সেফটিপিন থাকে কিন্তু কেউ টিস্যু বা সেফটিপিন চাইলে কেউকেই দেয় না।আবার কেউ টিস্যু চাইলে শাড়ির আচল দেয় আবার না চাইতেই সেফটিপিন দেয়।"

কোথা থেকে যেন দুটো পিঁপড়া এসে অমি আর রিমু কথা শুনছিল।কথাগুলো শুনে পিঁপড়াটা একটুকরো চিনি হাতে দিয়ে বললো,"দেখছো বউ,এটাকেই বলে ভালোবাসা।"

লিখেছেন Parvej Arjai Khan 3rd batch, SARSTEC

No comments

কীর্তনখোলায় অদ্রি

অদ্রি, তুমি কীর্তনখোলার পাড়ে গিয়েছো কখনো? কখনো তার মনের লুকায়িত কথাগুলো শুনছো? জানো, তার না আমার মতো অনেক কষ্ট আছে। কিন্তু সে তার ক...

Theme images by konradlew. Powered by Blogger.